ইদরিস (আ.) এর নবুওত প্রাপ্তি ও আকাশে উত্তোলন - তৃতীয় নবী

 


ইদরিস_(আ.)_এর_নবুওত_প্রাপ্তি_ও_আকাশে_উত্তোলন_তৃতীয়_নবী




















ইদরিস (আ.) এর নবুওত প্রাপ্তি ও আকাশে উত্তোলন - তৃতীয় নবী

ভূমিকা

মানবজাতির ইতিহাসে আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। এই মহান নবীদের মধ্যে হযরত ইদরিস (আ.) একজন বিশিষ্ট ও সম্মানিত নবী। তিনি ছিলেন মানবজাতির তৃতীয় নবী এবং তাঁর জীবনী অত্যন্ত বিস্ময়কর ও শিক্ষণীয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা তাঁকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর উচ্চ মর্যাদার কথা বর্ণনা করেছেন।

আরও পড়ুন: হযরত আদম (আ.) এর জীবনী | হযরত নূহ (আ.) এর কাহিনী

হযরত ইদরিস (আ.) এর পরিচয়

হযরত ইদরিস (আ.) ছিলেন হযরত আদম (আ.) এর বংশধর এবং হযরত শীস (আ.) এর পরবর্তী নবী। তিনি ছিলেন মানবজাতির তৃতীয় নবী। ইসলামিক ইতিহাস ও তাফসীর গ্রন্থ অনুযায়ী, তিনি হযরত আদম (আ.) এর ষষ্ঠ অথবা সপ্তম অধঃস্তন পুরুষ ছিলেন।

বহিঃসংযোগ: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

পবিত্র কুরআনে হযরত ইদরিস (আ.)

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা হযরত ইদরিস (আ.) সম্পর্কে দুটি সূরায় উল্লেখ করেছেন। সূরা মারিয়ামে আল্লাহ বলেন:

"আর স্মরণ করুন এই কিতাবে ইদরিসের কথা, নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও নবী। আমি তাকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছি।" (সূরা মারিয়াম: ৫৬-৫৭)

তথ্যসূত্র: Quran.com - সূরা মারিয়াম

সূরা আল-আম্বিয়াতেও তাঁকে ধৈর্যশীল নবীদের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কুরআনে বর্ণিত ২৫ জন নবী

নবুওত প্রাপ্তির পটভূমি

হযরত ইদরিস (আ.) এর সময়কালে মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুতি শুরু হয়েছিল। হযরত আদম (আ.) এবং হযরত শীস (আ.) এর শিক্ষাগুলো অনেকে ভুলে যেতে শুরু করেছিল।

এমন এক সংকটময় মুহূর্তে আল্লাহ তায়ালা হযরত ইদরিস (আ.) কে নবুওত প্রদান করেন। তিনি মানুষকে পুনরায় এক আল্লাহর পথে ডাকার দায়িত্ব পান।

সম্পর্কিত পোস্ট: নবী-রাসূলদের দায়িত্ব ও কর্তব্য

নবুওতের দায়িত্ব পালন

হযরত ইদরিস (আ.) নবুওত প্রাপ্তির পর তাঁর জাতির মাঝে তাওহীদের বাণী প্রচার শুরু করেন। তাঁর দাওয়াতের মূল বিষয়গুলো ছিল:

তাওহীদের শিক্ষা: তিনি মানুষকে শিখিয়েছিলেন যে, একমাত্র আল্লাহই সৃষ্টিকর্তা এবং তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।

নৈতিক শিক্ষা: হযরত ইদরিস (আ.) মানুষকে সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সত্যবাদিতা এবং উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দিয়েছিলেন।

আরও জানুন: ইসলামে নৈতিকতার গুরুত্ব

পরকালের বিশ্বাস: তিনি মানুষকে মৃত্যু পরবর্তী জীবন, কিয়ামত, হিসাব-নিকাশ এবং জান্নাত-জাহান্নাম সম্পর্কে সচেতন করতেন।

বহিঃসংযোগ: IslamQA - নবীদের দাওয়াত

হযরত ইদরিস (আ.) এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য

হযরত ইদরিস (আ.) শুধুমাত্র একজন নবীই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন মহান শিক্ষক, জ্ঞানী এবং বিজ্ঞানী।

লেখনী শিক্ষা

হযরত ইদরিস (আ.) সর্বপ্রথম কলম দিয়ে লেখার পদ্ধতি শিখিয়েছিলেন বলে অনেক ঐতিহাসিক বর্ণনা রয়েছে। এই কারণেই তাঁর নাম "ইদরিস" রাখা হয়েছিল, যার অর্থ অধ্যয়নকারী বা শিক্ষাদাতা।

সম্পর্কিত: ইসলামে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব

জ্যোতির্বিজ্ঞানে জ্ঞান

বিভিন্ন ইসলামিক ইতিহাসবিদদের মতে, হযরত ইদরিস (আ.) ছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানে অত্যন্ত পারদর্শী। তিনি নক্ষত্র, গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি এবং মহাকাশ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতেন।

গণিত শাস্ত্র

হযরত ইদরিস (আ.) গণিত শাস্ত্রেও অবদান রেখেছিলেন। তিনি হিসাব-নিকাশ, সংখ্যা পদ্ধতি এবং জ্যামিতি সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষা দিয়েছিলেন।

বহিঃসংযোগ: ইসলামিক স্কলারদের বৈজ্ঞানিক অবদান - Wikipedia

পোশাক তৈরির শিক্ষা

কিছু বর্ণনা অনুযায়ী, হযরত ইদরিস (আ.) সর্বপ্রথম সুঁই-সুতা দিয়ে পোশাক সেলাই করার পদ্ধতি শিখিয়েছিলেন।

অধিক ইবাদতকারী

হযরত ইদরিস (আ.) ছিলেন অত্যন্ত ইবাদতগুজার। হাদিস ও ঐতিহাসিক বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তিনি দিন-রাত আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকতেন।

আরও পড়ুন: নামাজের ফজিলত ও গুরুত্ব

আকাশে উত্তোলনের ঘটনা

হযরত ইদরিস (আ.) এর জীবনের সবচেয়ে রহস্যময় এবং বিস্ময়কর ঘটনা হলো তাঁর আকাশে উত্তোলন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:

"আমি তাকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছি।" (সূরা মারিয়াম: ৫৭)

তাফসীর সূত্র: তাফসীর ইবনে কাসীর | তাফসীর জালালাইন

উত্তোলনের বর্ণনা

বিভিন্ন হাদিস এবং তাফসীর গ্রন্থে হযরত ইদরিস (আ.) এর আকাশে উত্তোলনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। মিরাজের রাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) চতুর্থ আকাশে হযরত ইদরিস (আ.) এর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

বহিঃসংযোগ: সহীহ বুখারী - মিরাজের হাদিস

সম্পর্কিত পোস্ট: মিরাজের রাত্রির বিস্তারিত বিবরণ

উত্তোলনের হিকমত

আল্লাহ তায়ালা কেন হযরত ইদরিস (আ.) কে আকাশে উত্তোলন করেছিলেন, তার কয়েকটি হিকমত:

বিশেষ সম্মান: তাঁর অধিক ইবাদত এবং আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসার কারণে

জীবিত উত্তোলন: আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রমাণ

শিক্ষা গ্রহণ: বিশেষ ইলম ও জ্ঞান দান

হযরত ইদরিস (আ.) এর জীবনকাল

হযরত ইদরিস (আ.) কত বছর পৃথিবীতে ছিলেন এবং কত বছর জীবিত ছিলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ৩৬৫ বছর পৃথিবীতে ছিলেন।

বহিঃসংযোগ: Bible Gateway - Book of Genesis

হযরত ইদরিস (আ.) থেকে শিক্ষা

হযরত ইদরিস (আ.) এর জীবন থেকে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি:

জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব: দ্বীনি ও দুনিয়াবী উভয় ক্ষেত্রে জ্ঞান অর্জন

সত্যবাদিতা: সর্বদা সত্য কথা বলা

আল্লাহর ইবাদতে নিবেদিত থাকা: নিয়মিত নামাজ, রোজা পালন

দাওয়াতি কাজ: আল্লাহর পথে মানুষকে ডাকা

আরও পড়ুন: ইসলামে দাওয়াতের পদ্ধতি | চরিত্র গঠনের উপায়

নবীদের মধ্যে হযরত ইদরিস (আ.) এর স্থান

হযরত ইদরিস (আ.) নবীদের মধ্যে অত্যন্ত সম্মানিত স্থান দখল করে আছেন:

  • মানবজাতির তৃতীয় নবী
  • হযরত নূহ (আ.) এর পূর্ববর্তী
  • জীবিত অবস্থায় আকাশে উত্তোলিত
  • পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত ২৫ জন নবীর একজন

বহিঃসংযোগ: আল-ইসলাম ডট অর্গ

হযরত ইদরিস (আ.) সম্পর্কিত ভুল ধারণা

প্রথম ভুল ধারণা: তিনি মৃত্যুবরণ করেননি - সংশোধন প্রয়োজন

দ্বিতীয় ভুল ধারণা: তিনি পৃথিবীতে ফিরে আসবেন - এটি সঠিক নয়

তৃতীয় ভুল ধারণা: জাল হাদিস প্রচলন

গুরুত্বপূর্ণ লিংক: জাল হাদিস চিনার উপায় | সহীহ হাদিসের গ্রন্থসমূহ

আধুনিক যুগে হযরত ইদরিস (আ.) এর শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা

বিজ্ঞান ও ধর্মের সমন্বয়: ধর্মীয় জীবন এবং বিজ্ঞান চর্চা একসাথে

শিক্ষার গুরুত্ব: শিক্ষা অর্জন এবং বিতরণ

নৈতিকতা: নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষা

বহিঃসংযোগ: UNESCO - শিক্ষা সম্পর্কে

আরও পড়ুন: ইসলামে বিজ্ঞান চর্চার ইতিহাস | নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব

উপসংহার

হযরত ইদরিস (আ.) ইসলামের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় যে, জ্ঞান অর্জন, সত্যবাদিতা, আল্লাহর ইবাদত এবং মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত থাকা একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হযরত ইদরিস (আ.) এর জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

সম্পর্কিত পোস্টসমূহ:

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্রশ্ন ১: হযরত ইদরিস (আ.) কততম নবী ছিলেন?

উত্তর: হযরত ইদরিস (আ.) ছিলেন মানবজাতির তৃতীয় নবী।

প্রশ্ন ২: হযরত ইদরিস (আ.) কোন আকাশে আছেন?

উত্তর: চতুর্থ আকাশে রয়েছেন।

প্রশ্ন ৩: হযরত ইদরিস (আ.) কে "সিদ্দীক" বলা হয় কেন?

উত্তর: তাঁর অসাধারণ সত্যবাদিতার কারণে।

প্রশ্ন ৪: হযরত ইদরিস (আ.) কি মৃত্যুবরণ করেছেন?

উত্তর: হ্যাঁ, চতুর্থ আকাশে মৃত্যুবরণ করেছেন।

প্রশ্ন ৫: হযরত ইদরিস (আ.) কী কী শিক্ষা দিয়েছিলেন?

উত্তর: লেখনী, জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত এবং তাওহীদের শিক্ষা।

প্রশ্ন ৬: বাইবেলে হযরত ইদরিস (আ.) কে কী নামে উল্লেখ করা হয়েছে?

উত্তর: "এনোক" (Enoch) নামে।

প্রশ্ন ৭: হযরত ইদরিস (আ.) এবং হযরত ঈসা (আ.) এর মধ্যে কী মিল আছে?

উত্তর: উভয়কেই জীবিত অবস্থায় আকাশে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

প্রশ্ন ৮: পবিত্র কুরআনে হযরত ইদরিস (আ.) সম্পর্কে কোথায় উল্লেখ আছে?

উত্তর: সূরা মারিয়াম (১৯:৫৬-৫৭) এবং সূরা আল-আম্বিয়া।

প্রশ্ন ৯: হযরত ইদরিস (আ.) থেকে আমরা কী শিক্ষা নিতে পারি?

উত্তর: জ্ঞান অর্জন, সত্যবাদিতা, ইবাদত, ধৈর্য এবং বিনয়।

প্রশ্ন ১০: হযরত ইদরিস (আ.) কি পৃথিবীতে ফিরে আসবেন?

উত্তর: না, তিনি পৃথিবীতে ফিরে আসবেন না।

  1. Quran.com - পবিত্র কুরআন পড়ার জন্য
  2. Sunnah.com - হাদিস গ্রন্থ
  3. IslamQA.info - ইসলামিক প্রশ্নোত্তর
  4. ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
  5. Al-Islam.org

নোট: আপনার ব্লগের অন্যান্য পোস্টের সাথে সংযুক্ত করার জন্য "#" চিহ্নিত স্থানে আপনার প্রকৃত URL যুক্ত করুন। এভাবে Internal Linking সঠিকভাবে কাজ করবে এবং SEO উন্নত হবে।



Previous
Next Post »

Please do not enter any spam link in the comment box. ConversionConversion EmoticonEmoticon