ইদরিস (আ.) যিনি সেলাই আবিষ্কার করলেন: মানব সভ্যতার বিপ্লব

 


ইদরিস_(আ.)_যিনি_সেলাই_আবিষ্কার_করলেন


ইদরিস (আ.) যিনি সেলাই আবিষ্কার করলেন: মানব সভ্যতার বিপ্লব

ভূমিকা

মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমন কিছু আবিষ্কার রয়েছে যা আমাদের জীবনযাত্রাকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করে দিয়েছে। এর মধ্যে সেলাই করার কৌশল অন্যতম। আমরা প্রতিদিন যে পোশাক পরিধান করি, তার পেছনে রয়েছে হাজার বছরের পুরাতন এই শিল্প। ইসলামিক বর্ণনা অনুযায়ী, হযরত ইদরিস (আ.) ছিলেন প্রথম মানুষ যিনি সূচ-সুতা দিয়ে কাপড় সেলাই করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন এবং মানুষকে এই জ্ঞান শিক্ষা দেন।

হযরত ইদরিস (আ.) শুধুমাত্র একজন নবী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন মহান শিক্ষক, জ্ঞানী এবং সভ্যতার অগ্রদূত। তাঁর অবদান শুধু ধর্মীয় ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি মানব সভ্যতার উন্নয়নে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছিলেন। এই নিবন্ধে আমরা হযরত ইদরিস (আ.)-এর জীবন, তাঁর আবিষ্কার এবং মানব সভ্যতায় তাঁর অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

হযরত ইদরিস (আ.)-এর পরিচয়

হযরত ইদরিস (আ.) ছিলেন একজন মহান নবী যাঁকে আল্লাহ তায়ালা মানব জাতির হেদায়েতের জন্য পাঠিয়েছিলেন। কুরআন মাজিদে তাঁর নাম দুইবার উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা মারিয়ামের ৫৬-৫৭ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন:

"আপনি এ কিতাবে ইদরিসের কথা বর্ণনা করুন। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও নবী। আমি তাকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছি।"

বংশ পরিচয়

ইসলামিক ইতিহাসবিদদের মতে, হযরত ইদরিস (আ.) ছিলেন হযরত আদম (আ.)-এর তৃতীয় বংশধর এবং হযরত নূহ (আ.)-এর পূর্বপুরুষ। তাঁর পিতার নাম ছিল ইয়ারদ এবং তিনি হযরত শীস (আ.)-এর বংশধর ছিলেন। তাওরাতে তাঁকে 'হনোক' (Enoch) নামে উল্লেখ করা হয়েছে।

জন্ম ও জীবনকাল

ঐতিহাসিকদের মতামত অনুযায়ী, হযরত ইদরিস (আ.) হযরত আদম (আ.)-এর ইন্তেকালের প্রায় ৬২২ বছর পর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মিসর বা ব্যাবিলনে (বর্তমান ইরাক) জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। তিনি প্রায় ৩৬৫ বছর পৃথিবীতে অবস্থান করেছিলেন এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেন।

সেলাই আবিষ্কার: একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ

সেলাই আবিষ্কারের পূর্বের অবস্থা

সেলাই আবিষ্কারের পূর্বে মানুষ পশুর চামড়া এবং গাছের বাকল দিয়ে শরীর ঢাকার চেষ্টা করত। এই পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত অসুবিধাজনক এবং অস্বাস্থ্যকর। পশুর চামড়া শক্ত হয়ে যেত, দুর্গন্ধ ছড়াত এবং বিভিন্ন রোগের কারণ হতো। মানুষ বিভিন্ন উপায়ে এই চামড়া বা পাতা শরীরে জড়িয়ে রাখত, কিন্তু সেগুলো সহজেই খুলে যেত এবং সঠিকভাবে শরীর ঢাকতে পারত না।

সেলাইয়ের আবিষ্কার প্রক্রিয়া

হযরত ইদরিস (আ.) গভীর চিন্তাভাবনা এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সূচ ও সুতা ব্যবহার করে কাপড় সেলাই করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। তিনি প্রথমে:

১. সূচ তৈরি করেন: হাড় বা ধাতু থেকে সূক্ষ্ম সূচ তৈরি করলেন যার মাথায় ছিদ্র থাকত ২. সুতা প্রস্তুত করেন: পশুর লোম বা উদ্ভিজ্জ তন্তু থেকে সুতা প্রস্তুত করলেন ৩. সেলাই পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন: কীভাবে কাপড়ের দুই অংশকে সূচ-সুতা দিয়ে জোড়া দেওয়া যায় তা শিখালেন

এই আবিষ্কার মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি বিপ্লব সৃষ্টি করে। মানুষ এখন সুন্দর, আরামদায়ক এবং শরীরের সাথে মানানসই পোশাক তৈরি করতে পারত।

সেলাইয়ের প্রভাব সমাজে

সেলাই আবিষ্কারের ফলে মানব সমাজে যে পরিবর্তনগুলো এসেছিল:

স্বাস্থ্যগত উন্নতি: পরিষ্কার, ঠিকমতো সেলাই করা পোশাক স্বাস্থ্যকর ছিল এবং বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা দিত।

সামাজিক মর্যাদা: সুন্দর পোশাক পরিধান করা সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠল।

আবহাওয়া থেকে সুরক্ষা: শীত, গরম এবং বৃষ্টি থেকে ভালোভাবে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব হলো।

নতুন পেশার সৃষ্টি: দর্জি, কাপড় প্রস্তুতকারক ইত্যাদি নতুন পেশার উদ্ভব হলো।

হযরত ইদরিস (আ.)-এর অন্যান্য অবদান

হযরত ইদরিস (আ.) শুধুমাত্র সেলাই আবিষ্কার করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি মানব সভ্যতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রেখেছেন।

লেখার পদ্ধতি আবিষ্কার

হযরত ইদরিস (আ.) প্রথম মানুষ যিনি কলম দিয়ে লেখার পদ্ধতি শিক্ষা দেন। তিনি মানুষকে জ্ঞান লিপিবদ্ধ করার গুরুত্ব বুঝিয়েছিলেন। এর ফলে:

  • জ্ঞান সংরক্ষণ ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হলো
  • ইতিহাস লিপিবদ্ধ করা শুরু হলো
  • চুক্তি, ব্যবসায়িক লেনদেন ইত্যাদি লিখিতভাবে সংরক্ষণ হতে থাকল

জ্যোতির্বিজ্ঞানে অবদান

হযরত ইদরিস (আ.) ছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানের একজন অগ্রদূত। তিনি:

  • নক্ষত্র ও গ্রহের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন
  • সময় গণনার পদ্ধতি শিক্ষা দেন
  • ঋতু পরিবর্তনের হিসাব করতে শেখান
  • মানুষকে আকাশ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্টির মহিমা বুঝতে উৎসাহিত করেন

গণিতশাস্ত্রে অবদান

হযরত ইদরিস (আ.) মানুষকে গণনা এবং হিসাবের পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি:

  • সংখ্যা ব্যবস্থার ধারণা দেন
  • যোগ, বিয়োগ ইত্যাদি গাণিতিক কাজ শিক্ষা দেন
  • ব্যবসায়-বাণিজ্যে হিসাব রাখার পদ্ধতি শেখান

নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা

একজন নবী হিসেবে হযরত ইদরিস (আ.)-এর প্রধান দায়িত্ব ছিল মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা। তিনি:

  • তাওহীদের শিক্ষা দিতেন
  • সত্যবাদিতা ও ন্যায়পরায়ণতার গুরুত্ব শেখাতেন
  • পবিত্র জীবনযাপনের পদ্ধতি দেখাতেন
  • মানুষকে জ্ঞানার্জনে উৎসাহিত করতেন

সেলাই শিল্পের বিবর্তন

হযরত ইদরিস (আ.)-এর আবিষ্কারের পর থেকে সেলাই শিল্প ক্রমাগত বিকশিত হয়েছে।

প্রাচীন যুগে সেলাই

প্রাচীন সভ্যতাগুলোতে সেলাই শিল্প ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

  • মিসরীয় সভ্যতা: মিসরীয়রা লিনেন কাপড়ে চমৎকার সেলাই কাজ করত
  • ব্যাবিলনীয় সভ্যতা: এখানে রঙিন সুতা দিয়ে নকশা করার প্রচলন ছিল
  • ভারতীয় সভ্যতা: সূক্ষ্ম হাতের কাজ এবং এমব্রয়ডারিতে পারদর্শী ছিল
  • চীনা সভ্যতা: রেশম কাপড়ে অসাধারণ সেলাই শিল্পের বিকাশ ঘটায়

মধ্যযুগে সেলাই

মধ্যযুগে সেলাই একটি সম্মানজনক পেশায় পরিণত হয়:

  • দর্জিদের গিল্ড বা সংঘ গঠিত হয়
  • বিশেষায়িত সেলাই পদ্ধতির উদ্ভব
  • রাজ-রাজড়াদের জন্য বিশেষ পোশাক তৈরি
  • সেলাই শিক্ষার জন্য প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা

আধুনিক যুগে সেলাই

১৮ শতকের শেষের দিকে সেলাই মেশিন আবিষ্কারের ফলে বিপ্লব ঘটে:

  • ১৮৩০ সাল: বার্থেলেমি থিমোনিয়ের সেলাই মেশিন
  • ১৮৪৬ সাল: এলিয়াস হাওয়ের উন্নত সেলাই মেশিন
  • ১৮৫১ সাল: আইজাক সিঙ্গারের বাণিজ্যিক সেলাই মেশিন

আজকের দিনে:

  • কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত সেলাই মেশিন
  • স্বয়ংক্রিয় গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি
  • থ্রিডি প্রিন্টিং দিয়ে পোশাক তৈরি
  • স্মার্ট টেক্সটাইল প্রযুক্তি

ইসলামে পোশাকের গুরুত্ব

হযরত ইদরিস (আ.) যে সেলাই শিল্প শিক্ষা দিয়েছিলেন, তা পরবর্তীতে ইসলামী শরীয়তে পোশাকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়ায়।

কুরআনে পোশাকের উল্লেখ

আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন:

"হে বনী আদম! আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকে এবং যা সৌন্দর্যের বস্তু। আর তাকওয়ার পোশাক, এটাই সর্বোত্তম।" (সূরা আরাফ: ২৬)

পোশাকের উদ্দেশ্য

ইসলামে পোশাকের তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য:

১. লজ্জাস্থান ঢাকা: শরীয়ত নির্ধারিত অঙ্গ আবৃত রাখা ২. সৌন্দর্য বৃদ্ধি: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পোশাক পরিধান করা ৩. আবহাওয়া থেকে সুরক্ষা: শীত, গরম ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া

পোশাক সম্পর্কিত শিষ্টাচার

রাসূলুল্লাহ (সা.) পোশাক পরিধান সম্পর্কে যে শিক্ষা দিয়েছেন:

  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা
  • সাদাসিধে কিন্তু পরিপাটি পোশাক পরা
  • অহংকার প্রদর্শনের জন্য দামি পোশাক না পরা
  • বিপরীত লিঙ্গের পোশাক না পরা

বাংলাদেশে সেলাই শিল্পের বর্তমান অবস্থা

বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গার্মেন্টস রপ্তানিকারক দেশ। হযরত ইদরিস (আ.)-এর সেই আবিষ্কার আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি।

গার্মেন্টস শিল্পের পরিসংখ্যান

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BGMEA) এর তথ্য অনুযায়ী:

  • রপ্তানি আয়: বছরে প্রায় ৪০-৪৫ বিলিয়ন ডলার
  • কর্মসংস্থান: প্রায় ৪০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত
  • কারখানা: ৪০০০-এর বেশি গার্মেন্টস কারখানা
  • মোট রপ্তানির অংশ: প্রায় ৮৪% রপ্তানি আয় গার্মেন্টস থেকে

সেলাই শিল্পের সুবিধা

অর্থনৈতিক উন্নয়ন: বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং GDP বৃদ্ধি

নারী ক্ষমতায়ন: লাখ লাখ নারী স্বাবলম্বী হয়েছে

দক্ষতা বৃদ্ধি: প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি

সামাজিক পরিবর্তন: পরিবার ও সমাজে নারীদের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে

বর্তমান যুগে সেলাই শিক্ষার গুরুত্ব

আজকের দিনেও সেলাই শেখার অনেক গুরুত্ব রয়েছে:

ব্যক্তিগত দক্ষতা

  • নিজের এবং পরিবারের পোশাক তৈরি ও মেরামত করতে পারা
  • খরচ সাশ্রয়
  • সৃজনশীলতা বিকাশ
  • একটি মূল্যবান হাতের কাজ শেখা

পেশাগত সুবিধা

  • স্বাধীন ব্যবসা শুরু করা (বুটিক, টেইলারিং)
  • গার্মেন্টস শিল্পে চাকরির সুযোগ
  • ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার সুযোগ
  • অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে আয়

সামাজিক মর্যাদা

  • একটি সম্মানজনক পেশা
  • সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি
  • সমাজে অবদান রাখার সুযোগ

ইদরিস (আ.)-এর শিক্ষা থেকে আমাদের শিক্ষণীয়

হযরত ইদরিস (আ.)-এর জীবন ও কর্ম থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি:

জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব

তিনি একজন জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন এবং সব সময় নতুন কিছু শেখার ও শেখানোর চেষ্টা করতেন। আমাদেরও উচিত:

  • জ্ঞানার্জনে ব্রতী থাকা
  • নতুন দক্ষতা শেখা
  • অর্জিত জ্ঞান অন্যদের সাথে ভাগ করে নেওয়া

সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবন

হযরত ইদরিস (আ.) সমস্যার সমাধানে সৃজনশীল চিন্তা করতেন। আমাদেরও:

  • সমস্যাকে সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত
  • নতুন সমাধান খুঁজে বের করা উচিত
  • পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ভয় পাওয়া উচিত নয়

মানবতার সেবা

তিনি তাঁর সকল আবিষ্কার মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করেছেন। আমাদের:

  • অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা মানুষের উপকারে লাগানো উচিত
  • সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখা উচিত
  • অন্যদের সাহায্য করার মানসিকতা থাকা উচিত

কঠোর পরিশ্রম

যেকোনো আবিষ্কার বা সাফল্যের পেছনে কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন:

  • লক্ষ্য অর্জনে ধৈর্যশীল হওয়া
  • নিয়মিত অনুশীলন করা
  • ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেওয়া

উপসংহার

হযরত ইদরিস (আ.)-এর সেলাই আবিষ্কার মানব সভ্যতার ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এই সরল কিন্তু বিপ্লবী আবিষ্কার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করেছে, নতুন শিল্পের সৃষ্টি করেছে এবং কোটি কোটি মানুষের জীবিকার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি শুধুমাত্র একটি কারিগরি জ্ঞান শিক্ষা দেননি, বরং মানুষকে চিন্তা করতে, সমস্যার সমাধান খুঁজতে এবং জ্ঞানের মূল্য বুঝতে শিখিয়েছেন। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় যে প্রকৃত সফলতা হলো নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে মানবতার সেবা করা।

আজকের যুগেও, যখন আমরা আধুনিক সেলাই মেশিনে তৈরি পোশাক পরিধান করি, তখন আমাদের মনে রাখা উচিত যে এই সভ্যতার যাত্রা শুরু হয়েছিল একজন মহান নবীর হাতে, যিনি সূচ-সুতা দিয়ে মানব ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন।

হযরত ইদরিস (আ.)-এর এই মহান অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ এবং তাঁর শিক্ষা আমাদের জীবনে প্রয়োগ করে আমরাও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারি।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. হযরত ইদরিস (আ.) কে ছিলেন?

হযরত ইদরিস (আ.) ছিলেন একজন মহান নবী যিনি হযরত আদম (আ.)-এর তৃতীয় বংশধর এবং হযরত নূহ (আ.)-এর পূর্বপুরুষ ছিলেন। কুরআন মাজিদে তাঁকে সত্যবাদী ও নবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আল্লাহ তাঁকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন।

২. হযরত ইদরিস (আ.) সেলাই কীভাবে আবিষ্কার করলেন?

হযরত ইদরিস (আ.) গভীর চিন্তা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সূচ-সুতা ব্যবহার করে কাপড় সেলাই করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। তিনি হাড় বা ধাতু দিয়ে সূচ তৈরি করেন, পশুর লোম বা উদ্ভিজ্জ তন্তু থেকে সুতা প্রস্তুত করেন এবং কাপড়ের দুই অংশ জোড়া দেওয়ার পদ্ধতি শিক্ষা দেন।

৩. সেলাই আবিষ্কার কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল?

সেলাই আবিষ্কার মানব সভ্যতায় বিপ্লব এনেছিল কারণ:

  • মানুষ আরামদায়ক ও শরীরের সাথে মানানসই পোশাক তৈরি করতে পারত
  • স্বাস্থ্যগত উন্নতি হয়েছিল
  • আবহাওয়া থেকে ভালো সুরক্ষা পাওয়া গিয়েছিল
  • নতুন পেশা ও শিল্পের সৃষ্টি হয়েছিল

৪. হযরত ইদরিস (আ.)-এর অন্যান্য আবিষ্কার কী কী?

হযরত ইদরিস (আ.) সেলাই ছাড়াও আরও অনেক কিছু শিক্ষা দিয়েছিলেন:

  • কলম দিয়ে লেখার পদ্ধতি
  • জ্যোতির্বিজ্ঞান ও নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ
  • গণিতশাস্ত্র ও হিসাব পদ্ধতি
  • সময় গণনার পদ্ধতি

৫. কুরআনে হযরত ইদরিস (আ.) সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

কুরআন মাজিদে সূরা মারিয়ামের ৫৬-৫৭ নং আয়াতে হযরত ইদরিস (আ.) সম্পর্কে বলা হয়েছে: "নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও নবী। আমি তাকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছি।"

৬. বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সেলাই শিল্পের ভূমিকা কী?

বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গার্মেন্টস রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী এই শিল্প:

  • বছরে ৪০-৪৫ বিলিয়ন ডলার আয় করে
  • প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করেছে
  • মোট রপ্তানির ৮৪% অবদান রাখে
  • নারী ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে

৭. ইসলামে পোশাকের গুরুত্ব কী?

ইসলামে পোশাকের তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে:

  • লজ্জাস্থান ঢাকা
  • সৌন্দর্য বৃদ্ধি
  • আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক বিপদ থেকে সুরক্ষা

৮. বর্তমান যুগে সেলাই শেখার প্রয়োজনীয়তা কী?

বর্তমানে সেলাই শেখার বহুবিধ সুবিধা রয়েছে:

  • ব্যক্তিগত ও পরিবারের পোশাক তৈরি ও মেরামত
  • স্বাধীন ব্যবসা শুরু করা (বুটিক, টেইলারিং)
  • গার্মেন্টস শিল্পে চাকরির সুযোগ
  • খরচ সাশ্রয় ও সৃজনশীলতা বিকাশ

৯. হযরত ইদরিস (আ.) কত বছর জীবিত ছিলেন?

ইসলামিক বর্ণনা অনুযায়ী, হযরত ইদরিস (আ.) প্রায় ৩৬৫ বছর পৃথিবীতে ছিলেন এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেন।

১০. হযরত ইদরিস (আ.)-এর জীবন থেকে আমাদের কী শিক্ষা নেওয়া উচিত?

তাঁর জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি:

  • জ্ঞানার্জনে ব্রতী থাকা
  • সৃজনশীল চিন্তা ও উদ্ভাবনী মনোভাব রাখা
  • অর্জিত জ্ঞান মানবতার সেবায় ব্যবহার করা
  • কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্যের সাথে লক্ষ্য অর্জন করা

সম্পর্কিত পোস্ট 

বিশেষ দ্রষ্টব্য:

  • প্রতিটি External Link সক্রিয় এবং বিশ্বস্ত উৎস থেকে নেওয়া
  • Internal Links এর জন্য আপনার ওয়েবসাইটের সংশ্লিষ্ট পেজের URL যুক্ত করুন
  • সকল লিংক NoFollow নয়, DoFollow হিসেবে ব্যবহার করা যাবে
  • আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ SEO Friendly এবং Blogger Platform এর জন্য উপযুক্ত











Previous
Next Post »

Please do not enter any spam link in the comment box. ConversionConversion EmoticonEmoticon