নূরে ভরা শিশুর জন্ম: ইদরিস (আ.)-এর অলৌকিক জন্ম | Birth of Prophet Idri

 


নূরে_ভরা_শিশুর_জন্ম





















নূরে ভরা শিশুর জন্ম: ইদরিস (আ.)-এর অলৌকিক জন্ম | Birth of Prophet Idris

ভূমিকা

মহান আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে মানবজাতির হেদায়েতের জন্য অসংখ্য নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। এই মহান নবীদের মধ্যে হযরত ইদরিস (আ.) একজন বিশিষ্ট এবং সম্মানিত নবী। তিনি ছিলেন আদম (আ.)-এর পরবর্তী প্রজন্মের একজন নবী, যাঁর জীবন ও জন্ম রহস্যময় এবং অলৌকিক ঘটনায় পরিপূর্ণ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা তাঁর সম্পর্কে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছেন।

ইদরিস (আ.)-এর জন্ম ছিল এমন এক সময়ে যখন পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিল এবং সমাজে নানা ধরনের পরিবর্তন আসছিল। তাঁর জন্ম শুধুমাত্র একটি সাধারণ ঘটনা নয়, বরং এটি ছিল আল্লাহর বিশেষ পরিকল্পনার অংশ।

হযরত ইদরিস (আ.)-এর পরিচয়

নামকরণ ও বংশপরিচয়

হযরত ইদরিস (আ.)-এর প্রকৃত নাম ছিল খানুখ বা আখনুখ। তিনি নবী শীস (আ.)-এর বংশধর ছিলেন। ইসলামিক ইতিহাসবিদদের মতে, তিনি হযরত আদম (আ.)-এর ছয় বা সাত পুরুষ পরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল ইয়ারদ এবং তিনি একটি সম্মানিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

"ইদরিস" নামের অর্থ হলো "অধ্যয়নকারী" বা "শিক্ষক"। এই নামকরণের পেছনে রয়েছে তাঁর অসাধারণ জ্ঞান এবং বিদ্যাচর্চার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে বিশেষ জ্ঞান দান করেছিলেন, যার মাধ্যমে তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন।

কুরআনে ইদরিস (আ.)-এর উল্লেখ

পবিত্র কুরআনে দুটি স্থানে হযরত ইদরিস (আ.)-এর সম্পর্কে সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে:

সূরা মারিয়াম, আয়াত ৫৬-৫৭: "আর এই কিতাবে ইদরিসের কথা বর্ণনা করুন। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন একজন সত্যবাদী নবী। এবং আমি তাকে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছি।"

সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত ৮৫: "এবং ইসমাঈল, ইদরিস ও যুলকিফল, তারা সবাই ছিলেন ধৈর্যশীল।"

এই আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট যে, আল্লাহ তায়ালা ইদরিস (আ.)-কে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন এবং তাঁকে সত্যবাদিতা ও ধৈর্যের জন্য প্রশংসা করেছেন।

ইদরিস (আ.)-এর জন্মের প্রেক্ষাপট

তৎকালীন সময়ের অবস্থা

হযরত ইদরিস (আ.) যখন জন্মগ্রহণ করেন, তখন পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। হযরত আদম (আ.)-এর সময় থেকে মানুষ আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করত এবং সঠিক পথে চলত। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক পরিবর্তন আসতে শুরু করে।

এই সময়ে মানুষ কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন কারুশিল্পে নিয়োজিত হতে শুরু করে। সমাজে একটি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, কিন্তু একই সাথে কিছু মানুষের মধ্যে দুনিয়াবী লোভ-লালসাও বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

নবুওয়াতের প্রয়োজনীয়তা

এমন এক সময়ে আল্লাহ তায়ালা ইদরিস (আ.)-কে নবুওয়াত প্রদান করেন যখন মানুষের মধ্যে সঠিক দিকনির্দেশনার প্রয়োজন ছিল। যদিও তখনও মানুষ সম্পূর্ণভাবে পথভ্রষ্ট হয়নি, তবুও তাদেরকে আল্লাহর বিধান সম্পর্কে আরো গভীর জ্ঞান প্রদান এবং সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য একজন নবীর প্রয়োজন ছিল।

ইদরিস (আ.)-এর জন্মের অলৌকিক দিক

নূরানী বৈশিষ্ট্য

ইসলামিক বর্ণনা অনুসারে, হযরত ইদরিস (আ.)-এর জন্ম ছিল অত্যন্ত পবিত্র এবং নূরানী। অনেক মুফাসসির এবং ইতিহাসবিদ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি জন্মগ্রহণের সময় থেকেই বিশেষ গুণাবলী নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর চেহারা ছিল উজ্জ্বল এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

নবীদের জন্ম সাধারণ মানুষের জন্ম থেকে ভিন্ন। আল্লাহ তায়ালা তাঁদেরকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেন যাতে তাঁরা মানুষের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছাতে সক্ষম হন। ইদরিস (আ.)-এর ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি প্রযোজ্য ছিল।

জন্মের পর প্রথম লক্ষণ

ইসলামিক বর্ণনা অনুসারে, ইদরিস (আ.) শৈশব থেকেই অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং জ্ঞানী ছিলেন। তিনি অল্প বয়সেই জটিল বিষয় বুঝতে পারতেন এবং মানুষকে সঠিক পথ দেখাতে শুরু করেন। তাঁর এই অসাধারণ ক্ষমতা ছিল আল্লাহর বিশেষ দান।

অন্যান্য নবীদের মতো, ইদরিস (আ.)-এর মধ্যেও ছোটবেলা থেকেই সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছিল। তিনি কখনো মিথ্যা বলতেন না এবং সবসময় সত্য কথা বলতেন, যার জন্য আল্লাহ তায়ালা তাঁকে "সিদ্দীক" (সত্যবাদী) বলে অভিহিত করেছেন।

ইদরিস (আ.)-এর শিক্ষা ও জ্ঞান

লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন

হযরত ইদরিস (আ.)-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানগুলোর মধ্যে একটি হলো লেখার পদ্ধতি উদ্ভাবন। অনেক ইসলামিক পণ্ডিত মনে করেন যে, তিনিই প্রথম মানুষ যিনি কলম দিয়ে লেখার পদ্ধতি শিখিয়েছিলেন। এই কারণেই তাঁকে "ইদরিস" নাম দেওয়া হয়, যার অর্থ "অধ্যয়নকারী" বা "শিক্ষক"।

লেখার পদ্ধতি আবিষ্কার মানবসভ্যতার জন্য একটি যুগান্তকারী ঘটনা ছিল। এর মাধ্যমে মানুষ তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা এবং ইতিহাস সংরক্ষণ করতে পারত। ইদরিস (আ.) মানুষকে শিখিয়েছিলেন কীভাবে জ্ঞান লিপিবদ্ধ করতে হয় এবং কীভাবে তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হয়।

জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিত

ইদরিস (আ.) জ্যোতির্বিদ্যা এবং গণিতশাস্ত্রেও অসাধারণ জ্ঞান রাখতেন। তিনি মানুষকে আকাশের তারা, গ্রহ-নক্ষত্র সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি মানুষকে বুঝিয়েছিলেন যে, মহাবিশ্বের এই বিশাল সৃষ্টি আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর অসীম ক্ষমতার প্রমাণ।

গণিতশাস্ত্রের মাধ্যমে তিনি মানুষকে হিসাব-নিকাশ, সময় গণনা এবং বিভিন্ন পরিমাপ পদ্ধতি শিখিয়েছিলেন। এই জ্ঞান মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং উপকারী ছিল।

তাওহীদের শিক্ষা

সবচেয়ে বড় শিক্ষা যা ইদরিস (আ.) মানুষকে দিয়েছিলেন তা হলো তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদ। তিনি মানুষকে বুঝিয়েছিলেন যে, আল্লাহই একমাত্র স্রষ্টা এবং তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি মানুষকে শিরক থেকে দূরে রাখতে এবং শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করতে উৎসাহিত করতেন।

ইদরিস (আ.) মানুষকে নামাজ, রোজা এবং অন্যান্য ইবাদত সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি তাদেরকে সৎ জীবনযাপন, পরস্পরের প্রতি দয়া এবং ন্যায়বিচারের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছিলেন।

ইদরিস (আ.)-এর জীবনের বিশেষ ঘটনা

উচ্চ মর্যাদায় উত্তোলন

কুরআনে উল্লেখ আছে যে, আল্লাহ তায়ালা ইদরিস (আ.)-কে উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। অনেক তাফসীরকারক মনে করেন যে, এর অর্থ হলো আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জীবিত অবস্থায় আকাশে উঠিয়ে নিয়েছিলেন, যেমনভাবে পরবর্তীতে ঈসা (আ.)-কে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, ইদরিস (আ.)-এর একটি বিশেষ ঘটনা ছিল যেখানে তিনি একজন ফেরেশতার সাথে আকাশে ভ্রমণ করেছিলেন এবং সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। এটি ছিল আল্লাহর বিশেষ কুদরত এবং ইদরিস (আ.)-এর প্রতি তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ।

ফেরেশতার সাথে সাক্ষাৎ

কিছু ইসলামিক বর্ণনা অনুযায়ী, ইদরিস (আ.)-এর একজন ফেরেশতা বন্ধু ছিলেন। তিনি একবার সেই ফেরেশতার কাছে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করার অনুরোধ করেন যেন তিনি জান্নাত দেখতে পারেন এবং তাঁর আয়ু বৃদ্ধি পায়।

ফেরেশতা তাঁকে নিয়ে আকাশে উঠলেন এবং মালাকুল মউতের (মৃত্যুর ফেরেশতা) কাছে নিয়ে গেলেন। সেখানে একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটে এবং শেষপর্যন্ত ইদরিস (আ.)-এর মৃত্যু হয় চতুর্থ আকাশে, যেখানে তাঁর রূহ এখনো বিদ্যমান।

ইদরিস (আ.)-এর নবুওয়াতের বৈশিষ্ট্য

সত্যবাদিতা (সিদ্দীকিয়াত)

আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ইদরিস (আ.)-কে "সিদ্দীক" বলে আখ্যায়িত করেছেন। এটি একটি অত্যন্ত উচ্চমর্যাদার উপাধি। সিদ্দীক মানে হলো এমন ব্যক্তি যিনি সবসময় সত্য বলেন এবং যাঁর জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্যবাদিতা প্রতিফলিত হয়।

ইদরিস (আ.) কখনো মিথ্যা বলতেন না, তাঁর প্রতিটি কথা এবং কাজ ছিল সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। এই গুণের কারণে মানুষ তাঁকে গভীরভাবে সম্মান করত এবং তাঁর কথায় বিশ্বাস করত।

ধৈর্যশীলতা

সূরা আল-আম্বিয়াতে ইদরিস (আ.)-কে ধৈর্যশীলদের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে। নবীদের জীবনে অসংখ্য পরীক্ষা এবং কষ্ট আসে, কিন্তু তাঁরা সবসময় ধৈর্যের সাথে তা সহ্য করেন এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখেন।

ইদরিস (আ.) তাঁর নবুওয়াতি জীবনে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কখনো হতাশ হননি। তিনি ধৈর্যের সাথে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করে গেছেন।

জ্ঞান ও প্রজ্ঞা

ইদরিস (আ.)-এর আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর গভীর জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে এমন জ্ঞান দিয়েছিলেন যা তৎকালীন সময়ে অন্য কারো ছিল না। তিনি মানুষকে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং তাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করেছিলেন।

ইদরিস (আ.)-এর উপদেশ ও শিক্ষা

নৈতিক জীবনযাপন

ইদরিস (আ.) মানুষকে নৈতিক জীবনযাপনের শিক্ষা দিয়েছিলেন। তিনি বলতেন:

  • সবসময় সত্য কথা বলো
  • অন্যের সাথে ভালো ব্যবহার করো
  • গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করো
  • পিতা-মাতার সেবা করো
  • প্রতিবেশীদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখো

এই নৈতিক শিক্ষা মানুষের জীবনে শান্তি এবং সমৃদ্ধি নিয়ে আসে।

ইবাদতের গুরুত্ব

ইদরিস (আ.) নিয়মিত ইবাদতের উপর অত্যধিক গুরুত্ব দিতেন। তিনি মানুষকে বলেছিলেন যে, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক রক্ষা করার জন্য নিয়মিত ইবাদত অপরিহার্য। নামাজ, রোজা, দান-সদকা এবং আল্লাহর জিকির করা তাঁর শিক্ষার অন্যতম অংশ ছিল।

তিনি নিজেও অত্যন্ত ইবাদতগুজার ছিলেন। দিন-রাত আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকতেন এবং সবসময় আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করতেন।

পরকালের প্রস্তুতি

ইদরিস (আ.) মানুষকে পরকালের জন্য প্রস্তুতি নিতে উৎসাহিত করতেন। তিনি বলতেন যে, এই পৃথিবীর জীবন অস্থায়ী এবং আসল জীবন হলো আখিরাতের জীবন। তাই মানুষের উচিত এই দুনিয়াতে থাকাকালীন সময়ে সৎ কাজ করা এবং পাপ থেকে বিরত থাকা।

ইদরিস (আ.) থেকে আমাদের শিক্ষা

জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব

ইদরিস (আ.)-এর জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি যে, জ্ঞান অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শুধু ধর্মীয় জ্ঞানই নয়, বরং পার্থিব জ্ঞানেও পারদর্শী ছিলেন। একজন মুসলিমের উচিত ধর্মীয় এবং পার্থিব উভয় ক্ষেত্রেই জ্ঞান অর্জন করা।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ।" ইদরিস (আ.)-এর জীবন এই হাদিসের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

সত্যবাদিতা অবলম্বন

ইদরিস (আ.) ছিলেন সত্যবাদিতার মূর্ত প্রতীক। আমাদের জীবনেও সত্যবাদিতা অবলম্বন করা উচিত। মিথ্যা বলা একটি জঘন্য পাপ এবং এটি মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। সবসময় সত্য কথা বলা উচিত, এমনকি তা যদি নিজের বিরুদ্ধে যায়।

ধৈর্য ধারণ

জীবনে বিভিন্ন সমস্যা এবং পরীক্ষা আসবেই। এসব সময়ে ধৈর্য ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। ইদরিস (আ.) তাঁর জীবনে ধৈর্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি কখনো আল্লাহর ফয়সালায় অসন্তুষ্ট হননি বরং সবসময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠা

ইদরিস (আ.) শুধু উপদেশ দিতেন না, বরং নিজে কঠোর পরিশ্রম করতেন। তিনি মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য, জ্ঞান বিতরণের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। আমাদেরও উচিত নিজ নিজ ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম করা এবং নিষ্ঠার সাথে কাজ করা।

ইদরিস (আ.)-এর মর্যাদা

নবীদের মধ্যে স্থান

হযরত ইদরিস (আ.) আল্লাহর প্রিয় নবীদের মধ্যে একজন। তিনি ছিলেন প্রথম দিকের নবীদের অন্যতম এবং তাঁর অবদান অসামান্য। কুরআনে তাঁর প্রশংসা করা হয়েছে এবং তাঁকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করা হয়েছে।

মি'রাজের রাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) চতুর্থ আকাশে ইদরিস (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এটি তাঁর উচ্চ মর্যাদার একটি স্পষ্ট প্রমাণ।

উম্মতের কাছে তাঁর গুরুত্ব

ইদরিস (আ.)-এর জীবন এবং শিক্ষা আজও মুসলিম উম্মাহর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর সত্যবাদিতা, জ্ঞান, ধৈর্য এবং আল্লাহর প্রতি নিবেদন আমাদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ।

মুসলিমদের উচিত তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং সেই অনুযায়ী জীবনযাপন করা। তাঁর মতো জ্ঞান অর্জন করা, সত্যবাদী হওয়া এবং আল্লাহর পথে অবিচল থাকা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

সমাপনী

হযরত ইদরিস (আ.)-এর জন্ম এবং জীবন আমাদের জন্য অসংখ্য শিক্ষা নিয়ে আসে। তিনি ছিলেন নূরে ভরা একজন মহান নবী, যাঁর জীবন ছিল আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ নিবেদিত। তাঁর সত্যবাদিতা, জ্ঞান, ধৈর্য এবং ইবাদত আমাদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে ইদরিস (আ.)-এর শিক্ষা অনুসরণ করার এবং তাঁর মতো জীবনযাপন করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

আমরা যদি ইদরিস (আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের জীবনে প্রয়োগ করতে পারি, তাহলে আমাদের জীবন হবে সফল এবং আখিরাতে আমরা পাব আল্লাহর সন্তুষ্টি। আসুন, আমরা সবাই ইদরিস (আ.)-এর আদর্শে জীবন গড়ি এবং আল্লাহর পথে অবিচল থাকি।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. হযরত ইদরিস (আ.) কে ছিলেন?

হযরত ইদরিস (আ.) ছিলেন একজন মহান নবী যিনি হযরত আদম (আ.)-এর পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এসেছিলেন। তিনি সত্যবাদিতা, জ্ঞান এবং ধৈর্যের জন্য বিখ্যাত ছিলেন।

২. ইদরিস (আ.)-এর প্রকৃত নাম কী ছিল?

তাঁর প্রকৃত নাম ছিল খানুখ বা আখনুখ। "ইদরিস" নামটি তাঁর জ্ঞান এবং শিক্ষাদানের গুণের কারণে দেওয়া হয়েছিল।

৩. কুরআনে ইদরিস (আ.) সম্পর্কে কোথায় উল্লেখ আছে?

কুরআনে সূরা মারিয়ামের ৫৬-৫৭ আয়াতে এবং সূরা আল-আম্বিয়ার ৮৫ নম্বর আয়াতে ইদরিস (আ.)-এর উল্লেখ রয়েছে।

৪. ইদরিস (আ.)-এর প্রধান অবদান কী ছিল?

ইদরিস (আ.) লেখার পদ্ধতি উদ্ভাবন, জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিত শিক্ষা দেওয়া, এবং সর্বোপরি তাওহীদের শিক্ষা প্রদানের জন্য বিখ্যাত ছিলেন।

৫. "উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত" বলতে কী বোঝায়?

কুরআনে উল্লেখিত "উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত" বলতে অনেক তাফসীরকারক মনে করেন যে আল্লাহ তায়ালা ইদরিস (আ.)-কে জীবিত অবস্থায় আকাশে উঠিয়ে নিয়েছিলেন এবং তাঁকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন।

৬. ইদরিস (আ.) কি লেখা আবিষ্কার করেছিলেন?

হ্যাঁ, অনেক ইসলামিক পণ্ডিত মনে করেন যে হযরত ইদরিস (আ.)ই প্রথম লেখার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলেন এবং মানুষকে কলম দিয়ে লেখা শিখিয়েছিলেন।

৭. মি'রাজের রাতে কোথায় ইদরিস (আ.)-এর সাথে দেখা হয়েছিল?

মি'রাজের রাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) চতুর্থ আকাশে হযরত ইদরিস (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

৮. ইদরিস (আ.) কোন যুগে এসেছিলেন?

ইদরিস (আ.) হযরত আদম (আ.)-এর পরবর্তী এবং হযরত নূহ (আ.)-এর পূর্ববর্তী সময়ে এসেছিলেন। তিনি ছিলেন প্রথম দিকের নবীদের একজন।

৯. ইদরিস (আ.) থেকে আমরা কী শিক্ষা নিতে পারি?

ইদরিস (আ.) থেকে আমরা সত্যবাদিতা, জ্ঞান অর্জন, ধৈর্য ধারণ, কঠোর পরিশ্রম এবং আল্লাহর প্রতি নিবেদিত জীবনযাপনের শিক্ষা নিতে পারি।

১০. ইদরিস (আ.)-কে "সিদ্দীক" বলা হয় কেন?

ইদরিস (আ.)-কে "সিদ্দীক" বলা হয় কারণ তিনি সবসময় সত্য কথা বলতেন এবং তাঁর জীবনের প্রতিটি দিক সত্যবাদিতায় পরিপূর্ণ ছিল। কুরআনেও আল্লাহ তায়ালা তাঁকে "সিদ্দীক" বলে আখ্যায়িত করেছেন।

Previous
Next Post »

Please do not enter any spam link in the comment box. ConversionConversion EmoticonEmoticon