ভালো কাজ মনে হলেও শয়তানের ফাঁদ: মূর্তি তৈরির সিদ্ধান্ত প্রথম শিরকের শুরু


 

ভালো_কাজ_মনে_হলেও_শয়তানের_ফাঁদ





















ভালো কাজ মনে হলেও শয়তানের ফাঁদ: মূর্তি তৈরির সিদ্ধান্ত প্রথম শিরকের শুরু

ইসলামের ইতিহাসে শিরক বা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন এর সূচনা কীভাবে হয়েছিল তা জানা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা অনেক সময় ভাবি যে শিরক হঠাৎ করেই মানুষের মধ্যে প্রবেশ করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শয়তান মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং ধীরে ধীরে পদক্ষেপ নেয়। একটি ভালো কাজ বলে মনে হওয়া বিষয় থেকেই শুরু হয়েছিল মানব ইতিহাসের প্রথম শিরক। এই নিবন্ধে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব কীভাবে মূর্তি তৈরির মাধ্যমে শিরকের সূচনা হয়েছিল এবং এর থেকে আমরা কী শিক্ষা নিতে পারি।

নূহ আলাইহিস সালামের যুগে শিরকের সূচনা

ইসলামি ইতিহাস এবং তাফসির গ্রন্থসমূহ অনুযায়ী, পৃথিবীতে শিরকের সূচনা হয়েছিল হযরত নূহ আলাইহিস সালামের সময়কালে। আদম আলাইহিস সালাম থেকে নূহ আলাইহিস সালাম পর্যন্ত দীর্ঘ সময় মানুষ তাওহিদের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। তারা এক আল্লাহর ইবাদত করত এবং তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাসী ছিল।

নূহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ে কিছু অত্যন্ত নেককার এবং সৎ মানুষ ছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য - ওয়াদ, সুয়া, ইয়াগুস, ইয়াউক এবং নাসর। এই পাঁচজন ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক, আল্লাহভীরু এবং মানুষের মধ্যে সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। তারা মানুষকে সৎ কাজের উপদেশ দিতেন, আল্লাহর ইবাদতে উৎসাহিত করতেন এবং তাদের জীবনযাপন ছিল অনুকরণীয়।

মৃত্যুর পর স্মরণ রাখার সৎ উদ্দেশ্য

যখন এই পাঁচজন মহান ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলেন, তখন তাদের সম্প্রদায়ের মানুষ গভীর শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ল। তারা ছিলেন এমন ব্যক্তিত্ব যাদের উপস্থিতিতে মানুষ নেকির পথে অনুপ্রাণিত হতো। তাদের অনুপস্থিতিতে মানুষ অনুভব করল একটি বড় শূন্যতা। তাদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য এবং তাদের মতো নেককার হওয়ার অনুপ্রেরণা পাওয়ার জন্য মানুষ একটি সিদ্ধান্ত নিল।

শয়তান এই সুযোগটি কাজে লাগাল। সে মানুষের মনে এই ধারণা ঢুকিয়ে দিল যে, এই মহান ব্যক্তিদের স্মরণে তাদের প্রতিকৃতি বা মূর্তি তৈরি করা হোক। যুক্তি ছিল অত্যন্ত সরল এবং আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত - এই মূর্তিগুলো দেখলে মানুষ তাদের সৎ কাজের কথা মনে করবে এবং তাদের মতো নেককার হওয়ার চেষ্টা করবে। এটি ছিল একটি স্মারক, একটি অনুপ্রেরণার মাধ্যম।

প্রথম প্রজন্ম যারা এই মূর্তিগুলো তৈরি করেছিল, তারা ভালোভাবেই জানত যে এগুলো শুধুমাত্র পাথর বা কাঠের তৈরি নিষ্প্রাণ বস্তু। তাদের কোনো ক্ষমতা নেই, তারা কোনো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না। এই মূর্তিগুলোকে তারা শুধুমাত্র স্মারক হিসেবে দেখত, যেমন আজকের যুগে আমরা কোনো মহান ব্যক্তির ছবি বা স্ট্যাচু দেখি।

দ্বিতীয় প্রজন্মে ধারণার পরিবর্তন

সময় অতিবাহিত হলো। প্রথম প্রজন্ম যারা এই মূর্তিগুলো তৈরি করেছিল এবং যাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্মরণ রাখা, তারা মৃত্যুবরণ করল। তাদের সন্তান এবং পরবর্তী প্রজন্ম এই মূর্তিগুলো দেখে বড় হলো। কিন্তু তাদের কাছে মূর্তি তৈরির মূল উদ্দেশ্য এবং প্রেক্ষাপট সঠিকভাবে পৌঁছায়নি।

শয়তান আবারও তার কাজ শুরু করল। দ্বিতীয় প্রজন্মের মনে সে এই ধারণা ঢুকিয়ে দিল যে, তাদের পূর্বপুরুষরা এই মূর্তিগুলোকে শুধু স্মারক হিসেবে দেখত না, বরং তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করত। এভাবে ধীরে ধীরে মূর্তিগুলোর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হতে শুরু করল।

তৃতীয় এবং চতুর্থ প্রজন্মে এসে শয়তান আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। সে মানুষের মনে এই বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিল যে, এই মহান ব্যক্তিরা আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন এবং তাদের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা বেশি কবুল হয়। এভাবে মানুষ মূর্তিগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে দোয়া করতে শুরু করল, মূর্তিগুলোকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করতে লাগল।

শিরকের পূর্ণাঙ্গ রূপ

আরও কয়েক প্রজন্ম পরে পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে বদলে গেল। মানুষ ভুলে গেল মূল ইতিহাস। তারা বিশ্বাস করতে শুরু করল যে এই মূর্তিগুলোর নিজস্ব ক্ষমতা আছে। তারা মনে করতে লাগল যে এই মূর্তিরা তাদের উপকার করতে পারে, ক্ষতি করতে পারে, রিজিক দিতে পারে, সন্তান দিতে পারে এবং বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

এভাবেই একটি সম্পূর্ণ শিরকি সমাজের উদ্ভব হলো। যা শুরু হয়েছিল একটি আপাত নিরীহ এবং সৎ উদ্দেশ্য থেকে, তা পরিণত হলো সবচেয়ে বড় পাপ শিরকে। মানুষ আল্লাহকে বাদ দিয়ে এই মূর্তিগুলোর ইবাদত করতে শুরু করল। এই অবস্থার প্রতিকারের জন্যই আল্লাহ তায়ালা নূহ আলাইহিস সালামকে নবী হিসেবে প্রেরণ করলেন।

পবিত্র কুরআনে সূরা নূহে এই মূর্তিগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "এবং তারা বলেছে, তোমরা কখনো তোমাদের উপাস্যদের ত্যাগ করো না এবং ত্যাগ করো না ওয়াদ, সুয়া, ইয়াগুস, ইয়াউক ও নাসরকে।"

শয়তানের কৌশলের বিশ্লেষণ

শয়তানের এই পুরো কৌশলটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং পরিকল্পিত ছিল। সে জানত যে মানুষকে সরাসরি শিরকের দিকে ডাকলে তারা কখনো সাড়া দেবে না। বিশেষ করে সেই যুগের মানুষ যারা তাওহিদের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, তাদেরকে সরাসরি মূর্তি পূজা করতে বললে তারা কখনো রাজি হতো না।

তাই শয়তান তার পরিকল্পনা করল দীর্ঘমেয়াদী। সে প্রথম প্রজন্মকে দিয়ে শুধু একটি ছোট কাজ করাল - একটি স্মারক তৈরি করা। এটি এমন একটি কাজ যা বাহ্যিকভাবে ভালো মনে হয়। কে না চায় তার সম্মানিত ব্যক্তিদের স্মরণ রাখতে? কে না চায় তাদের সৎ গুণাবলী নিজের মধ্যে আনতে?

শয়তান জানত যে পরিবর্তন একদিনে আসে না। তাই সে ধৈর্য ধরল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সে মানুষের বিশ্বাস এবং চিন্তাধারায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনল। প্রতিটি প্রজন্ম আগের প্রজন্ম থেকে একটু একটু করে বিচ্যুত হলো। এবং শেষ পর্যন্ত তারা পৌঁছে গেল সম্পূর্ণ শিরকের মধ্যে।

আধুনিক যুগে শয়তানের একই কৌশল

অবাক করার বিষয় হলো, আজকের যুগেও শয়তান একই কৌশল ব্যবহার করে। সে মানুষকে কখনো সরাসরি হারাম কাজে লিপ্ত হতে বলে না। বরং সে একটি ছোট, আপাত নিরীহ কাজ দিয়ে শুরু করে। তারপর ধীরে ধীরে মানুষকে বড় পাপের দিকে নিয়ে যায়।

উদাহরণস্বরূপ, আজকের যুগে অনেক মুসলিম সমাজে মাজার পূজা, পীর পূজা, কবর পূজার মতো শিরকি কাজ প্রচলিত। এগুলোও শুরু হয়েছিল নেক মানুষদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের নাম দিয়ে। প্রথমে মানুষ শুধু তাদের স্মরণ করত, তাদের জন্য দোয়া করত। কিন্তু ধীরে ধীরে তা পরিণত হয়েছে তাদের কাছে দোয়া চাওয়া, তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা এবং তাদের নামে মানত করার মধ্যে।

একইভাবে, আধুনিক যুগে অনেক নতুন ধরনের শিরক প্রবেশ করছে মুসলিম সমাজে। কখনো তা আসে সংস্কৃতি বা ঐতিহ্যের নামে, কখনো আসে আধুনিকতা বা প্রগতিশীলতার নামে। কিন্তু মূলে থাকে শয়তানের সেই একই পুরনো কৌশল - একটি ছোট পদক্ষেপ দিয়ে শুরু করা এবং ধীরে ধীরে মানুষকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া।

ভালো উদ্দেশ্যই যথেষ্ট নয়

এই ঘটনা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো যে, শুধু ভালো উদ্দেশ্য থাকলেই একটি কাজ বৈধ হয়ে যায় না। ইসলামে যেকোনো কাজ বৈধ হওয়ার জন্য দুটি শর্ত পূরণ করতে হয় - প্রথমত, উদ্দেশ্য সঠিক হতে হবে অর্থাৎ কাজটি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হবে। দ্বিতীয়ত, পদ্ধতি সঠিক হতে হবে অর্থাৎ কাজটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেখানো পদ্ধতিতে করা হবে।

নূহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দেশ্য ছিল ভালো। তারা চেয়েছিল নেককার মানুষদের স্মরণ রাখতে এবং তাদের অনুসরণ করতে। কিন্তু তাদের পদ্ধতি ছিল ভুল। আল্লাহ কখনো মূর্তি বা প্রতিকৃতি তৈরি করে কাউকে স্মরণ রাখার অনুমতি দেননি। এবং এই ভুল পদ্ধতির কারণেই তা পরবর্তীতে শিরকে পরিণত হয়েছিল।

আজকের যুগেও আমরা দেখি অনেক মানুষ বিভিন্ন বিদআত এবং অবৈধ কাজ করে ভালো উদ্দেশ্য দেখিয়ে। তারা বলে, আমরা তো আল্লাহকে খুশি করার জন্যই এটি করছি। আমাদের উদ্দেশ্য তো ভালো। কিন্তু ইসলাম স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে যে, আল্লাহকে সেভাবেই খুশি করতে হবে যেভাবে তিনি এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিখিয়েছেন, নিজের মনগড়া পদ্ধতিতে নয়।

প্রাথমিক পর্যায়ে সতর্কতার গুরুত্ব

এই ঘটনা থেকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো প্রাথমিক পর্যায়ে সতর্কতার গুরুত্ব। যদি প্রথম প্রজন্মের মানুষ মূর্তি তৈরি না করত, তাহলে পরবর্তী প্রজন্মে শিরকের উদ্ভব হতো না। একটি ছোট ভুল সিদ্ধান্ত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষকে গোমরাহীর মধ্যে নিমজ্জিত করতে পারে।

এজন্য ইসলাম অত্যন্ত সতর্কভাবে সেসব বিষয় নিষিদ্ধ করেছে যা শিরকের দিকে নিয়ে যেতে পারে। যদিও প্রথম দৃষ্টিতে সেগুলো ক্ষতিকর মনে না হয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা মানুষকে শিরকের দিকে ধাবিত করতে পারে। এই কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাণীর ছবি বানানো নিষিদ্ধ করেছেন। কবরকে উঁচু করতে, সাজাতে এবং তার উপর নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন। নামাজের সময় সামনে কোনো ছবি বা মূর্তি রাখতে নিষেধ করেছেন।

এসব নিষেধাজ্ঞার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো শিরকের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া। ইসলাম শুধু শিরক নিষিদ্ধ করেনি, বরং যা কিছু শিরকের দিকে নিয়ে যেতে পারে তাও নিষিদ্ধ করেছে। এটি একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা যা মানুষকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষা দেয়।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জ্ঞান হস্তান্তরের গুরুত্ব

এই ঘটনা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে - প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সঠিক ইসলামি জ্ঞান হস্তান্তরের গুরুত্ব। নূহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ে শিরক প্রবেশ করেছিল কারণ পরবর্তী প্রজন্মকে সঠিক জ্ঞান দেওয়া হয়নি। তারা জানত না মূর্তি তৈরির আসল ইতিহাস এবং প্রেক্ষাপট। এই জ্ঞানের অভাবই তাদেরকে গোমরাহীর দিকে নিয়ে গিয়েছিল।

আজকের যুগেও এই বিষয়টি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আমরা যদি আমাদের সন্তানদের সঠিক ইসলামি শিক্ষা না দিই, তাওহিদের গুরুত্ব না বুঝাই, শিরকের ভয়াবহতা না জানাই, তাহলে তারা ধীরে ধীরে বিচ্যুত হয়ে যেতে পারে। হয়তো আমরা নিজেরা সঠিক পথে আছি, কিন্তু আমাদের উদাসীনতার কারণে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম গোমরাহ হয়ে যেতে পারে।

এজন্য প্রতিটি মুসলিম পিতামাতার দায়িত্ব হলো তাদের সন্তানদের সঠিক ইসলামি শিক্ষা দেওয়া। তাদের শেখাতে হবে আল্লাহ কে, তাঁর অধিকার কী, শিরক কী এবং কেন তা সবচেয়ে বড় পাপ। সন্তানদের মধ্যে তাওহিদের দৃঢ় বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাহলেই তারা শয়তানের ধোঁকা থেকে রক্ষা পাবে।

তাওহিদের গুরুত্ব

শিরক থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো তাওহিদে মজবুত হওয়া। তাওহিদ মানে আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করা। এটি বিশ্বাস করা যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনিই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা এবং তিনিই একমাত্র ইবাদতের যোগ্য।

তাওহিদ তিন প্রকার - রুবুবিয়্যাহর তাওহিদ অর্থাৎ আল্লাহর প্রভুত্বে একত্ববাদ, উলুহিয়্যাহর তাওহিদ অর্থাৎ ইবাদতে একত্ববাদ এবং আসমা ওয়াস সিফাতের তাওহিদ অর্থাৎ আল্লাহর নাম ও গুণাবলীতে একত্ববাদ। একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের এই তিন প্রকার তাওহিদেই বিশ্বাস করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী জীবন যাপন করতে হবে।

যখন একজন মানুষের হৃদয়ে তাওহিদ দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন শয়তান তার কাছে সহজে পৌঁছাতে পারে না। সে বুঝতে পারে কোন কাজ তাওহিদের পরিপন্থী এবং কোন কাজ তাওহিদ অনুযায়ী। শয়তান যতই ভালো যুক্তি দিয়ে তাকে প্রলুব্ধ করুক না কেন, তাওহিদের দৃঢ় বিশ্বাস তাকে রক্ষা করে।

সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্ব

শিরক থেকে বাঁচার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা। তিনি যেভাবে ইবাদত করেছেন, যেভাবে জীবন যাপন করেছেন, সেভাবেই আমাদের করতে হবে। তিনি যা করতে নিষেধ করেছেন, তা থেকে দূরে থাকতে হবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন তাওহিদের সবচেয়ে বড় সংরক্ষক। তিনি প্রতিটি বিষয়ে সতর্ক করে গেছেন যা শিরকের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেছেন যে তাঁর উম্মতের মধ্যেও শিরক প্রবেশ করবে। এবং তিনি সেগুলো থেকে বাঁচার উপায়ও বলে দিয়েছেন।

যখন আমরা সুন্নাহ অনুসরণ করি, তখন আমরা নিরাপদ থাকি। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পথ দেখিয়ে গেছেন, তা হলো সরল পথ যা আল্লাহর কাছে পৌঁছায়। কিন্তু যখন আমরা সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত হই এবং নিজেদের মনগড়া পদ্ধতি অবলম্বন করি, তখন আমরা বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ি।

আলেমদের সাথে সম্পর্ক রাখার গুরুত্ব

ইসলামি জ্ঞানী এবং আলেমদের সাথে সম্পর্ক রাখা এবং তাদের থেকে শেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা কুরআন এবং সুন্নাহর গভীর জ্ঞান রাখেন এবং কোন বিষয়টি সঠিক আর কোন বিষয়টি ভুল তা বুঝতে পারেন। সাধারণ মানুষ হয়তো কোনো কাজকে ভালো মনে করে করতে পারে, কিন্তু আলেমরা তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বুঝতে পারেন।

নূহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ে যদি আলেমরা উপস্থিত থাকতেন এবং মানুষ যদি তাদের পরামর্শ নিত, তাহলে হয়তো মূর্তি তৈরির এই ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো না। কিন্তু মানুষ নিজেদের বুদ্ধি এবং বিবেচনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং ফলাফল হয়েছিল ভয়াবহ।

আজকের যুগেও আমাদের উচিত যেকোনো ধর্মীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জ্ঞানী আলেমদের পরামর্শ নেওয়া। নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা এবং বুঝ অনুযায়ী ইসলাম পালন না করা। কারণ ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা এবং এর অনেক বিষয় আছে যা গভীর জ্ঞান ছাড়া সঠিকভাবে বোঝা সম্ভব নয়।

ছোট ছোট বিদআত থেকে সতর্ক থাকা

শিরক যেমন ছোট থেকে শুরু হয়েছিল, তেমনি বিদআতও ছোট থেকে শুরু হয়। বিদআত হলো দীনের মধ্যে এমন কিছু যোগ করা যা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেননি। প্রথমে এটি ছোট মনে হয়, কিন্তু ধীরে ধীরে এটি বড় হয় এবং মানুষকে সঠিক পথ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়।

আজকের সমাজে আমরা দেখি অনেক ছোট ছোট বিদআত প্রচলিত আছে। কেউ হয়তো বলবে, এটা তো ছোট ব্যাপার, এতে কী এমন ক্ষতি। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে নূহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের মানুষও প্রথমে ভেবেছিল এটি ছোট ব্যাপার। কিন্তু সেই ছোট ব্যাপার থেকেই শুরু হয়েছিল মানব ইতিহাসের প্রথম শিরক।

এজন্য প্রতিটি বিদআত, তা যত ছোটই হোক না কেন, তা থেকে দূরে থাকতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতিটি বিদআত গোমরাহী এবং প্রতিটি গোমরাহী জাহান্নামে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেছেন, তোমরা দীনের মধ্যে নতুন বিষয় থেকে সাবধান থাকো, কারণ প্রতিটি নতুন বিষয় বিদআত।

পরিবার ও সমাজের ভূমিকা

শিরক এবং বিদআত থেকে বাঁচার জন্য পরিবার এবং সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ইসলামি পরিবার এবং সমাজ যেখানে তাওহিদ এবং সুন্নাহর চর্চা হয়, সেখানে শিরক এবং বিদআত প্রবেশ করা কঠিন। কিন্তু যে পরিবার এবং সমাজে ইসলামি জ্ঞানের অভাব, সেখানে শয়তান সহজেই তার কাজ সম্পন্ন করতে পারে।

পরিবারের বড়দের দায়িত্ব হলো ছোটদের সঠিক শিক্ষা দেওয়া। শুধু দুনিয়াবি শিক্ষা নয়, বরং দীনি শিক্ষাও দিতে হবে। তাদের শেখাতে হবে নামাজ, রোজা, কুরআন তেলাওয়াত এবং সর্বোপরি তাওহিদের মূল শিক্ষা। একটি শিশু যদি ছোটবেলা থেকে তাওহিদের শিক্ষা পায়, তাহলে বড় হয়ে সে শিরক থেকে দূরে থাকবে।

সমাজেরও দায়িত্ব আছে একে অপরকে সঠিক পথে রাখার। যদি কেউ বিদআত বা শিরকের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তাহলে অন্যদের উচিত তাকে সদুপদেশ দেওয়া, সঠিক পথ দেখানো। তবে এটি করতে হবে হিকমত এবং প্রজ্ঞার সাথে, কঠোরতার সাথে নয়। কারণ মানুষ কঠোরতায় বিদ্রোহী হয়, কিন্তু ভালোবাসা এবং হিকমতে সে সঠিক পথে ফিরে আসে।

আত্মসমীক্ষার গুরুত্ব

প্রতিটি মুসলিমের উচিত নিয়মিত আত্মসমীক্ষা করা। নিজের বিশ্বাস এবং কাজকর্ম পরীক্ষা করে দেখা যে তাতে শিরক বা বিদআতের কোনো উপাদান আছে কিনা। অনেক সময় আমরা এমন কিছু কাজ করি যা আমাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়, কিন্তু আসলে তা শিরক বা বিদআতের পর্যায়ে পড়ে।

উদাহরণস্বরূপ, অনেকে বিপদে পড়লে আল্লাহকে ডাকার পরিবর্তে কোনো মৃত ব্যক্তি বা পীরকে ডাকে। তারা মনে করে এটি একটি স্বাভাবিক ব্যাপার কারণ তারা ছোটবেলা থেকে এটি দেখে আসছে। কিন্তু এটি আসলে শিরক। কারণ আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকা, তার কাছে সাহায্য চাওয়া শিরক।

আবার অনেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এমন কিছু কাজ করে যা ইসলামে নেই। তারা বলে, এটি আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের ঐতিহ্য। কিন্তু যদি সেই সংস্কৃতি বা ঐতিহ্য ইসলামের বিপরীত হয়, তাহলে তা পরিত্যাগ করতে হবে। কারণ একজন মুসলিমের পরিচয় হলো ইসলাম, কোনো নির্দিষ্ট সংস্কৃতি নয়।

নিয়মিত আত্মসমীক্ষার মাধ্যমে আমরা নিজেদের ভুল ধরতে পারি এবং সংশোধন করতে পারি। এবং এভাবে আমরা শয়তানের ফাঁদ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারি।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১: শিরক কী এবং এটি কেন সবচেয়ে বড় পাপ?

শিরক হলো আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করা। এর অর্থ হলো আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ইবাদত করা, আল্লাহর কোনো গুণ বা ক্ষমতা অন্য কারো মধ্যে আছে বলে বিশ্বাস করা, বা আল্লাহর একচ্ছত্র অধিকারে অন্য কাউকে শরিক করা। শিরক সবচেয়ে বড় পাপ কারণ এটি সৃষ্টিকর্তার প্রতি সর্বোচ্চ অবিচার। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন যে তিনি সব পাপ ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু শিরক ক্ষমা করবেন না যদি কেউ তওবা না করে মৃত্যুবরণ করে।

প্রশ্ন ২: কীভাবে বুঝব যে কোনো কাজ শিরক কিনা?

কোনো কাজ শিরক কিনা তা বোঝার জন্য কুরআন এবং সুন্নাহর আলোকে যাচাই করতে হবে। যদি কোনো কাজে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ইবাদত করা হয়, তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়া হয়, তাঁর নামে মানত করা হয়, বা তাঁর সম্পর্কে এমন বিশ্বাস রাখা হয় যা শুধু আল্লাহরই প্রাপ্য, তাহলে তা শিরক। সন্দেহ হলে জ্ঞানী আলেমদের কাছে জিজ্ঞাসা করা উচিত।

প্রশ্ন ৩: নেক মানুষদের প্রতিকৃতি বা ছবি রাখা কি জায়েজ?

ইসলামে প্রাণীর ছবি বা প্রতিকৃতি তৈরি করা নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্টভাবে প্রাণীর ছবি বানানো এবং ঘরে রাখা থেকে নিষেধ করেছেন। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো এটি শিরকের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যেমনটি নূহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে হয়েছিল। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন পাসপোর্ট, পরিচয়পত্রের ছবি জায়েজ।

প্রশ্ন ৪: মাজার বা কবর জিয়ারত করা কি শিরক?

কবর জিয়ারত করা জায়েজ তবে শর্ত সাপেক্ষে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবর জিয়ারতের অনুমতি দিয়েছেন কারণ এটি মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং আখিরাতের কথা মনে করায়। তবে কবরবাসীর কাছে কিছু চাওয়া, তাদের নামে মানত করা, তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা, কবরের চারপাশে তাওয়াফ করা - এসব কাজ শিরক। কবর জিয়ারতে শুধু মৃতদের জন্য দোয়া করা যাবে, তাদের কাছে দোয়া চাওয়া যাবে না।

প্রশ্ন ৫: বিদআত কী এবং এটি কেন বর্জন করা উচিত?

বিদআত হলো দীনের মধ্যে এমন কিছু যোগ করা যা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রতিটি বিদআত গোমরাহী। বিদআত বর্জন করা উচিত কারণ এটি সুন্নাহ থেকে দূরে সরিয়ে নেয় এবং ধীরে ধীরে আরও বড় ভুলের দিকে নিয়ে যেতে পারে। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ দীন এবং এতে নতুন কিছু যোগ করার প্রয়োজন নেই।

প্রশ্ন ৬: সন্তানদের কীভাবে শিরক থেকে রক্ষা করা যায়?

সন্তানদের শিরক থেকে রক্ষা করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো তাদের ছোটবেলা থেকেই তাওহিদের শিক্ষা দেওয়া। তাদের শেখাতে হবে যে আল্লাহই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, রিজিকদাতা এবং ইবাদতের যোগ্য। তাদের নিয়মিত নামাজ পড়ার অভ্যাস করাতে হবে, কুরআন শেখাতে হবে এবং সর্বোপরি নিজেরা তাওহিদের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে তাদের জন্য আদর্শ হতে হবে। পরিবারে শিরক এবং বিদআতমুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

প্রশ্ন ৭: ভালো উদ্দেশ্যে করা কোনো কাজ কি বৈধ হয়ে যায়?

না, শুধু ভালো উদ্দেশ্য থাকলেই কোনো কাজ বৈধ হয় না। ইসলামে কোনো কাজ বৈধ হওয়ার জন্য দুটি শর্ত পূরণ হতে হবে - উদ্দেশ্য সঠিক হতে হবে অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হবে এবং পদ্ধতি সঠিক হতে হবে অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী করা হবে। নূহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দেশ্য ভালো ছিল কিন্তু পদ্ধতি ভুল ছিল, তাই তা শিরকে পরিণত হয়েছিল।

প্রশ্ন ৮: শয়তান কীভাবে মানুষকে ধোঁকা দেয়?

শয়তান সরাসরি মানুষকে পাপের দিকে ডাকে না কারণ সে জানে মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করবে। বরং সে অত্যন্ত ধীরে ধীরে এবং সূক্ষ্মভাবে কাজ করে। প্রথমে সে একটি ছোট কাজ করায় যা আপাত দৃষ্টিতে ভালো মনে হয়। তারপর ধীরে ধীরে সে মানুষকে বড় পাপের দিকে নিয়ে যায়। সে ভালো কাজের নামে মন্দ কাজ করায়, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে বিদআত প্রবেশ করায়। এজন্য সতর্ক থাকা এবং কুরআন-সুন্নাহ অনুসরণ করা জরুরি।

প্রশ্ন ৯: যদি আমার পরিবারে বা সমাজে শিরকি কাজ হয়, আমার কী করা উচিত?

প্রথমে নিজে সেই শিরকি কাজ থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকতে হবে। তারপর হিকমত এবং প্রজ্ঞার সাথে পরিবার এবং সমাজের লোকদের বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে। কঠোর হলে বা বেশি চাপ দিলে মানুষ বিদ্রোহী হয়ে যায়। তাই ভালোবাসা এবং দরদের সাথে তাদের শিরকের ভয়াবহতা এবং তাওহিদের গুরুত্ব বোঝাতে হবে। প্রয়োজনে জ্ঞানী আলেমদের সাহায্য নিতে হবে। সর্বোপরি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে যেন তিনি তাদের হেদায়েত দেন।

প্রশ্ন ১০: তাওহিদ কীভাবে শক্তিশালী করা যায়?

তাওহিদ শক্তিশালী করার জন্য নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত এবং এর অর্থ বোঝা জরুরি। নামাজে মনোযোগী হতে হবে এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করতে হবে। আল্লাহর নাম এবং গুণাবলী সম্পর্কে জানতে হবে এবং তাঁর মহত্ত্ব অনুধাবন করতে হবে। নিয়মিত জিকির করতে হবে এবং দোয়ায় শুধু আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইতে হবে। ইসলামি জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং নেককার মানুষদের সাথে চলাফেরা করতে হবে। এভাবে ধীরে ধীরে তাওহিদ হৃদয়ে দৃঢ় হয়ে যাবে।

পরিশেষে বলা যায়, নূহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের ঘটনা থেকে আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। শয়তান অত্যন্ত ধৈর্যশীল এবং ধূর্ত শত্রু। সে আমাদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য যেকোনো উপায় অবলম্বন করবে। কিন্তু যদি আমরা তাওহিদের উপর দৃঢ় থাকি, কুরআন এবং সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরি, এবং সর্বদা সতর্ক থাকি, তাহলে আমরা শয়তানের সব ফাঁদ থেকে রক্ষা পাব। আল্লাহ আমাদের সবাইকে শিরক এবং বিদআত থেকে হেফাজত করুন এবং তাওহিদের উপর অবিচল রাখুন।

Previous
Next Post »

Please do not enter any spam link in the comment box. ConversionConversion EmoticonEmoticon