শীস (আ.) এর আগমন: হাবিলের পর নতুন আশা | Prophet Sheess Story Bangla
ভূমিকা
মানব ইতিহাসের প্রথম হত্যাকাণ্ডের পর পৃথিবীতে নেমে আসে এক গভীর শোক ও অন্ধকার। হাবিলের নৃশংস হত্যা আদম (আ.) এবং হাওয়া (আ.) কে ভেঙে ফেলেছিল। তাঁদের সন্তান কাবিল ভাইয়ের রক্তে হাত রাঙিয়ে পলায়ন করেছিল। এমন এক বেদনাদায়ক পরিস্থিতিতে আল্লাহ তায়ালা আদম (আ.) এর পরিবারে পাঠান এক নতুন সন্তান - শীস (আ.)। যিনি ছিলেন হাবিলের স্থলাভিষিক্ত এবং মানবজাতির জন্য নতুন আশার বার্তাবাহক।
শীস (আ.) শুধুমাত্র একজন নবী ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবসভ্যতার পুনর্গঠনের কারিগর। তাঁর জীবন ও শিক্ষা আমাদের সামনে তুলে ধরে কীভাবে বিপর্যয়ের পর আবার মানবতা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে।
শীস (আ.) এর পরিচয় ও জন্মের প্রেক্ষাপট
নামের অর্থ ও তাৎপর্য
"শীস" নামটি এসেছে "হিব্রু" ভাষা থেকে যার অর্থ "প্রতিস্থাপন" বা "দান"। বাইবেলে তাঁর নাম উল্লেখ আছে "Seth" হিসেবে। আল্লাহ তায়ালা হাবিলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে শীস (আ.) কে দান করেছিলেন, যিনি ছিলেন সত্যের পথের ধারক ও বাহক।
জন্মকাল ও পরিবার
ইসলামিক ঐতিহাসিকদের মতে, হাবিলের শাহাদাতের পর আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) দীর্ঘদিন শোকে মগ্ন ছিলেন। তাঁরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন একজন সৎ সন্তানের জন্য। তাদের এই দোয়া কবুল হয় এবং আদম (আ.) এর বয়স যখন ১৩০ বছর তখন শীস (আ.) এর জন্ম হয়।
হাদিস ও ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী:
- শীস (আ.) ছিলেন আদম (আ.) এর তৃতীয় পুত্র
- তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুদর্শন ও জ্ঞানী
- জন্মের সময় থেকেই তাঁর মধ্যে নবুওয়াতের লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছিল
শীস (আ.) এর নবুওয়াত লাভ
নবুওয়াতের দায়িত্ব
আদম (আ.) এর জীবদ্দশায়ই শীস (আ.) নবুওয়াত লাভ করেন। তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল:
- তাওহীদের প্রচার: একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের শিক্ষা দেওয়া
- শরীয়তের সংরক্ষণ: আদম (আ.) এর শরীয়তকে সংরক্ষণ ও প্রচার করা
- সমাজ সংস্কার: কাবিলের অনুসারীদের পথভ্রষ্টতা থেকে মানুষকে ফেরানো
- জ্ঞান বিতরণ: মানবজাতিকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান-বিজ্ঞান শেখানো
আসমানী সহীফা
ইসলামিক স্কলারদের মতে, শীস (আ.) এর উপর ৫০টি সহীফা (পাতা) বা ছোট গ্রন্থ নাজিল হয়েছিল। এই সহীফাগুলোতে ছিল:
- আল্লাহর একত্ববাদের বিস্তারিত আলোচনা
- নৈতিক শিক্ষা ও জীবন বিধান
- হালাল-হারামের বিধান
- পরকালের জীবন সম্পর্কে জ্ঞান
হাবিলের পর পৃথিবীর অবস্থা
কাবিলের অপকর্ম ও তার প্রভাব
হাবিলকে হত্যার পর কাবিল পলায়ন করে দূরবর্তী এক অঞ্চলে চলে যায়। সেখানে সে একটি আলাদা সমাজ গড়ে তোলে যেখানে:
- আল্লাহর বিধান উপেক্ষা করা হতো
- পার্থিব ভোগবিলাসকে প্রাধান্য দেওয়া হতো
- নৈতিক অবক্ষয় শুরু হয়েছিল
আদম (আ.) এর শোক ও দুঃখ
হাবিলের মৃত্যুতে আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.) ভীষণ শোকাহত হন। তাঁরা:
- দীর্ঘদিন কান্নায় কাটিয়েছিলেন
- আল্লাহর কাছে ধৈর্যের জন্য প্রার্থনা করেছিলেন
- মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন
শীস (আ.) কীভাবে নতুন আশার সঞ্চার করলেন
সমাজ সংস্কার
শীস (আ.) তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে সমাজে এক বিশাল পরিবর্তন আনেন:
ধর্মীয় সংস্কার:
- তিনি মানুষকে তাওহীদের দিকে ডাকেন
- শিরক ও মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করেন
- ইবাদতের সঠিক পদ্ধতি শেখান
নৈতিক সংস্কার:
- হত্যা, চুরি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন
- পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরেন
- সততা ও ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা দেন
জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার
শীস (আ.) মানবজাতিকে বিভিন্ন জ্ঞান শিখিয়েছিলেন:
- কৃষিকাজ: উন্নত কৃষি পদ্ধতি শেখান
- জ্যোতির্বিজ্ঞান: তারকা ও গ্রহ-নক্ষত্র সম্পর্কে জ্ঞান দেন
- গণিত ও হিসাব: হিসাব-নিকাশের পদ্ধতি শেখান
- লিখন পদ্ধতি: লেখার পদ্ধতি উন্নত করেন
শীস (আ.) এর শিক্ষা ও উপদেশ
তাওহীদের শিক্ষা
শীস (আ.) সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন আল্লাহর একত্ববাদের শিক্ষায়। তিনি বলতেন:
"আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনিই একমাত্র স্রষ্টা, পালনকর্তা ও রিজিকদাতা। তাঁর কোনো শরীক নেই এবং তিনি সকল সৃষ্টি থেকে মুক্ত ও পবিত্র।"
নৈতিক মূল্যবোধ
শীস (আ.) মানুষকে উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধ শেখাতেন:
সততা ও সত্যবাদিতা:
- সর্বদা সত্য কথা বলা
- প্রতারণা ও মিথ্যা থেকে দূরে থাকা
ন্যায়পরায়ণতা:
- সকলের সাথে ন্যায্য আচরণ করা
- দুর্বলদের পক্ষে দাঁড়ানো
ধৈর্য ও সবর:
- বিপদে ধৈর্য ধারণ করা
- আল্লাহর উপর ভরসা রাখা
শীস (আ.) এর অনুসারী ও বংশধর
সৎ বংশধর
শীস (আ.) এর বংশে জন্ম নেন অনেক নবী-রাসূল। তাঁর উল্লেখযোগ্য বংশধরদের মধ্যে রয়েছেন:
- ইদরিস (আ.): যিনি পরবর্তীতে নবুওয়াত লাভ করেন
- নূহ (আ.): মহাপ্লাবনের নবী
- অন্যান্য সৎ ও মুত্তাকী ব্যক্তিবর্গ
শীস (আ.) এর উম্মত
শীস (আ.) এর অনুসারীরা ছিলেন:
- তাওহীদে বিশ্বাসী
- আল্লাহর আদেশ পালনকারী
- নৈতিক জীবন যাপনকারী
- জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চাকারী
আদম (আ.) এর ইন্তেকাল ও শীস (আ.) এর দায়িত্ব গ্রহণ
আদম (আ.) এর শেষ দিনগুলো
ইসলামিক বর্ণনা অনুযায়ী, আদম (আ.) ৯৩০ বছর জীবিত ছিলেন। তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতে:
- শীস (আ.) তাঁর সেবায় নিয়োজিত ছিলেন
- আদম (আ.) শীস (আ.) কে সকল জ্ঞান ও দায়িত্ব অর্পণ করেন
- মৃত্যুর পূর্বে তিনি উম্মতকে শীস (আ.) এর অনুসরণের উপদেশ দেন
নেতৃত্বের হস্তান্তর
আদম (আ.) এর মৃত্যুর পর শীস (আ.) সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন:
- মানবজাতির ধর্মীয় নেতা হিসেবে
- জ্ঞান ও শিক্ষার প্রচারক হিসেবে
- সমাজের সংস্কারক হিসেবে
শীস (আ.) এর যুগের চ্যালেঞ্জ
কাবিলের বংশধরদের বিরোধিতা
কাবিলের বংশধররা শীস (আ.) এর বিরোধিতা করতো কারণ:
- তারা ভোগবিলাসী জীবন যাপন করতো
- আল্লাহর বিধান মানতে চাইতো না
- দুনিয়াবী স্বার্থ তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল
সমাজে নৈতিক অবক্ষয়
শীস (আ.) এর যুগে যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হতে হয়েছিল:
- নৈতিক অধঃপতন
- ধর্মীয় শিথিলতা
- পার্থিব প্রলোভন
- মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি
শীস (আ.) এর জীবনের শিক্ষা
আধুনিক যুগের জন্য প্রাসঙ্গিকতা
শীস (আ.) এর জীবন থেকে আমরা যে শিক্ষা পাই:
বিপদে ধৈর্য:
যেমন আদম (আ.) হাবিলের মৃত্যুতে ধৈর্য ধরেছিলেন, আমাদেরও উচিত সকল বিপদে ধৈর্য ধারণ করা।
সংস্কার কাজ:
শীস (আ.) যেমন সমাজ সংস্কার করেছিলেন, আমাদেরও উচিত নিজেদের সমাজকে সংস্কার করা।
জ্ঞান অর্জন:
তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার ঘটিয়েছিলেন, আমাদেরও জ্ঞান অর্জন ও বিতরণ করা উচিত।
তাওহীদে অটল থাকা:
যেকোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস রাখা।
শীস (আ.) এর মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
জীবনকাল
ইসলামিক বর্ণনা অনুযায়ী, শীস (আ.) ৯১২ বছর জীবিত ছিলেন। তাঁর পুরো জীবন কেটেছে:
- আল্লাহর ইবাদতে
- মানুষের হেদায়েতে
- জ্ঞান বিতরণে
- সমাজ সংস্কারে
উত্তরসূরী
শীস (আ.) এর পর তাঁর পুত্র আনুশ (Anoosh/Enosh) দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে:
- তাওহীদের বার্তা প্রচারিত হয়
- নবী-রাসূলগণের আগমন ঘটে
- মানবসভ্যতা এগিয়ে যায়
শীস (আ.) সম্পর্কে ইসলামিক গ্রন্থের বর্ণনা
কুরআনে উল্লেখ
যদিও কুরআনে সরাসরি শীস (আ.) এর নাম উল্লেখ নেই, তবে সূরা আন-নিসার ১৬৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:
"নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি যেমন পাঠিয়েছিলাম নূহ এবং তাঁর পরবর্তী নবীগণের প্রতি।"
ইসলামিক স্কলারদের মতে, এখানে নূহ (আ.) এর পূর্ববর্তী নবীদের মধ্যে শীস (আ.) অন্তর্ভুক্ত।
হাদিসে বর্ণনা
বিভিন্ন হাদিসে শীস (আ.) সম্পর্কে উল্লেখ পাওয়া যায়:
ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আল্লাহ তায়ালা আদম (আ.) এর উপর ১০৪টি সহীফা নাজিল করেছিলেন এবং শীস (আ.) এর উপর ৫০টি সহীফা নাজিল করেছিলেন।"
শীস (আ.) এর অবদান: সংক্ষিপ্ত তালিকা
- ধর্মীয় ক্ষেত্রে: তাওহীদের প্রচার ও প্রসার
- শিক্ষা ক্ষেত্রে: জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসার
- সামাজিক ক্ষেত্রে: সমাজ সংস্কার ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা
- পারিবারিক ক্ষেত্রে: সৎ বংশধর রেখে যাওয়া
- সভ্যতায়: মানব সভ্যতার ভিত্তি মজবুত করা
উপসংহার
শীস (আ.) এর আগমন ছিল হাবিলের শাহাদাতের পর এক নতুন আশার আলো। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, যতই অন্ধকার নেমে আসুক না কেন, আল্লাহর রহমত ও করুণা সবসময় মানবজাতির জন্য নতুন পথ খুলে দেয়। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় যে:
- বিপদে হতাশ না হয়ে আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হয়
- সমাজ সংস্কারে এগিয়ে আসতে হয়
- জ্ঞান অর্জন ও বিতরণ করতে হয়
- তাওহীদের পথে অটল থাকতে হয়
শীস (আ.) এর জীবনী আমাদের প্রেরণা দেয় যে, আমরাও আমাদের যুগে তাওহীদের বার্তা প্রচার করতে পারি, সমাজকে সংস্কার করতে পারি এবং মানবতার কল্যাণে কাজ করতে পারি।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. শীস (আ.) কে ছিলেন?
শীস (আ.) ছিলেন আদম (আ.) এর তৃতীয় পুত্র এবং একজন নবী। হাবিল (আ.) এর শাহাদাতের পর তিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এবং মানবজাতিকে তাওহীদের পথে পরিচালিত করেন।
২. শীস (আ.) এর উপর কি কোনো আসমানী কিতাব নাজিল হয়েছিল?
হ্যাঁ, ইসলামিক বর্ণনা অনুযায়ী শীস (আ.) এর উপর ৫০টি সহীফা (ছোট গ্রন্থ) নাজিল হয়েছিল যেগুলোতে তাওহীদ, নৈতিকতা ও জীবন বিধান সম্পর্কিত শিক্ষা ছিল।
৩. শীস (আ.) কত বছর জীবিত ছিলেন?
ইসলামিক ঐতিহাসিকদের মতে, শীস (আ.) ৯১২ বছর জীবিত ছিলেন।
৪. আদম (আ.) এর বয়স কত ছিল যখন শীস (আ.) জন্মগ্রহণ করেন?
ইসলামিক বর্ণনা অনুযায়ী, আদম (আ.) এর বয়স যখন ১৩০ বছর তখন শীস (আ.) জন্মগ্রহণ করেন।
৫. শীস (আ.) এর কোন বংশধর নবী ছিলেন?
শীস (আ.) এর বংশধরদের মধ্যে অনেক নবী ছিলেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেন ইদরিস (আ.) এবং নূহ (আ.)।
৬. কুরআনে কি শীস (আ.) এর নাম উল্লেখ আছে?
কুরআনে সরাসরি শীস (আ.) এর নাম উল্লেখ নেই, তবে নবীগণের আলোচনায় তিনি অন্তর্ভুক্ত বলে ইসলামিক স্কলাররা মত প্রকাশ করেছেন।
৭. শীস (আ.) মানবজাতিকে কী কী শিক্ষা দিয়েছিলেন?
শীস (আ.) মানবজাতিকে তাওহীদ, নৈতিকতা, কৃষিকাজ, জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত এবং লিখন পদ্ধতি শিখিয়েছিলেন।
৮. হাবিলের পর কেন শীস (আ.) এর আগমন গুরুত্বপূর্ণ?
হাবিলের শাহাদাতের পর আদম (আ.) এর পরিবার গভীর শোকে নিমজ্জিত ছিল। শীস (আ.) এর আগমন নতুন আশার সঞ্চার করে এবং তিনি হাবিলের স্থলাভিষিক্ত হয়ে সত্যের পথ অব্যাহত রাখেন।
৯. শীস (আ.) কি আদম (আ.) এর জীবদ্দশায় নবুওয়াত লাভ করেছিলেন?
হ্যাঁ, শীস (আ.) আদম (আ.) এর জীবদ্দশায়ই নবুওয়াত লাভ করেছিলেন এবং তাঁর সাথে একসাথে মানবজাতির হেদায়েতের কাজ করেছিলেন।
১০. শীস (আ.) এর জীবন থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই?
শীস (আ.) এর জীবন থেকে আমরা শিখি: বিপদে ধৈর্য ধারণ, তাওহীদে অটল থাকা, সমাজ সংস্কার, জ্ঞান অর্জন ও বিতরণ এবং নৈতিক জীবন যাপন করা।
_%E0%A6%8F%E0%A6%B0_%E0%A6%86%E0%A6%97%E0%A6%AE%E0%A6%A8.jpeg)
Please do not enter any spam link in the comment box. ConversionConversion EmoticonEmoticon