শীস (আ.) সতর্ক করলেন: নিচে যেও না সেখানে পাপ - Two Societies Story
ভূমিকা
মানব ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যা আমাদের শিক্ষা দেয়, সতর্ক করে এবং সঠিক পথ দেখায়। নবী শীস (আলাইহিস সালাম)-এর সময়কার দুই সমাজের কাহিনী এমনই একটি চিরন্তন শিক্ষা। এই কাহিনী আমাদের জানায় কীভাবে পাপ ও পুণ্যের দুটি পথ মানুষের সামনে থাকে এবং কোন পথ বেছে নেওয়া উচিত।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত জানব হযরত শীস (আ.)-এর জীবন, তাঁর সতর্কবাণী এবং দুই সমাজের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে। এই ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে আমরা আধুনিক যুগের জন্য কী শিক্ষা নিতে পারি তাও আলোচনা করব।
হযরত শীস (আ.) কে ছিলেন?
হযরত শীস (আলাইহিস সালাম) ছিলেন হযরত আদম (আ.)-এর তৃতীয় পুত্র। হাবিল ও কাবিলের ঘটনার পর আল্লাহ তায়ালা আদম (আ.)-কে শীস (আ.)-কে দান করেন। তাঁর নাম "শীস" এসেছে "হিবাতুল্লাহ" থেকে যার অর্থ "আল্লাহর দান"।
শীস (আ.)-এর বৈশিষ্ট্য
- তিনি ছিলেন আদম (আ.)-এর পরবর্তী নবী
- তাঁকে ৫০টি সহীফা (ছোট কিতাব) দেওয়া হয়েছিল
- তিনি মানুষকে তাওহিদ ও সত্যের দিকে আহ্বান করেছিলেন
- তাঁর জীবনকাল ছিল প্রায় ৯১২ বছর
ইসলামিক ইতিহাস অনুযায়ী, শীস (আ.) তাঁর পিতা আদম (আ.)-এর ওফাতের পর তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং মানবজাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য কাজ করেন।
দুই সমাজের উৎপত্তি
হযরত আদম (আ.)-এর বংশধরেরা যখন পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলেন, তখন তারা দুটি প্রধান গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে পড়েন:
পাহাড়ের উপরের সমাজ (পুণ্যবান সমাজ)
এই সমাজের মানুষেরা:
- আল্লাহর ইবাদত করতেন নিয়মিত
- সৎ জীবনযাপন করতেন
- নবী শীস (আ.)-এর শিক্ষা মেনে চলতেন
- পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন
- সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন
নিচের উপত্যকার সমাজ (পাপী সমাজ)
এই সমাজের মানুষেরা:
- আল্লাহর আদেশ অমান্য করতেন
- পাপাচারে লিপ্ত ছিলেন
- বিলাসিতা ও অশ্লীলতায় মত্ত ছিলেন
- সঙ্গীত, নাচ এবং অন্যান্য পাপ কাজে নিমজ্জিত ছিলেন
- শয়তানের প্ররোচনায় পরিচালিত হতেন
শীস (আ.)-এর সতর্কবাণী
নবী শীস (আলাইহিস সালাম) যখন দেখলেন যে পাহাড়ের উপরের পুণ্যবান মানুষেরা নিচের উপত্যকার পাপী সমাজের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন, তখন তিনি তাদের কঠোরভাবে সতর্ক করে দিলেন।
সতর্কবাণীর মূল বিষয়
"নিচে যেও না, সেখানে পাপ!" - এই ছিল শীস (আ.)-এর প্রধান সতর্কবাণী।
তিনি তাঁর অনুসারীদের বললেন:
- নিচের উপত্যকায় গেলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে
- পাপী সমাজের সংস্পর্শ তোমাদের ঈমান নষ্ট করবে
- শয়তান তোমাদের বিভ্রান্ত করবে
- একবার সেখানে গেলে ফিরে আসা কঠিন হবে
সতর্কবাণীর কারণ
শীস (আ.) জানতেন যে:
- মানুষের মন দুর্বল এবং প্রলোভনের কাছে সহজেই হার মানে
- পাপের পথ শুরুতে আকর্ষণীয় মনে হয় কিন্তু শেষ পরিণতি ভয়াবহ
- সৎসঙ্গ মানুষকে ভালো রাখে এবং কুসঙ্গ ধ্বংস করে
- একবার পাপের পথে পা বাড়ালে ক্রমশ গভীরে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে
দুই সমাজের মধ্যে পার্থক্য
জীবনযাত্রার মান
পাহাড়ের উপরের সমাজ:
- সাদামাটা জীবন
- কঠোর পরিশ্রম
- আল্লাহর উপর নির্ভরশীলতা
- আত্মিক শান্তি
নিচের উপত্যকার সমাজ:
- বিলাসবহুল জীবন
- আরাম-আয়েশ
- পার্থিব সম্পদের প্রাচুর্য
- আত্মিক শূন্যতা
নৈতিক মূল্যবোধ
পুণ্যবান সমাজ:
- সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা
- পরিবার ব্যবস্থার সুরক্ষা
- নারী-পুরুষের মধ্যে শালীনতা রক্ষা
- সামাজিক শৃঙ্খলা
পাপী সমাজ:
- মিথ্যা ও অন্যায়ের প্রসার
- পারিবারিক মূল্যবোধের অবক্ষয়
- অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা
- সামাজিক বিশৃঙ্খলা
পতনের শুরু: প্রথম পদক্ষেপ
ইসলামিক বর্ণনা অনুযায়ী, পাহাড়ের উপরের সমাজের পতন শুরু হয়েছিল ছোট ছোট পদক্ষেপ থেকে। শয়তান তাদের মনে প্রলোভন সৃষ্টি করল:
প্রথম পর্যায়: কৌতূহল
- "শুধু একবার দেখে আসি কেমন আছে তারা"
- "শুধু জানার জন্য যাচ্ছি, কোনো ক্ষতি নেই"
- "আমরা তো শক্ত ঈমানের অধিকারী, আমাদের কিছু হবে না"
দ্বিতীয় পর্যায়: মেলামেশা
- নিচের সমাজের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন
- তাদের অনুষ্ঠানে যোগদান
- "শুধু সামাজিকতা, পাপ তো করছি না"
তৃতীয় পর্যায়: অভ্যস্ততা
- ধীরে ধীরে পাপকে স্বাভাবিক মনে করা
- নিজেদের জীবনে পাপ প্রবেশ করানো
- শীস (আ.)-এর শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়া
চতুর্থ পর্যায়: সম্পূর্ণ পতন
- পাহাড় ছেড়ে সম্পূর্ণভাবে নিচে নেমে যাওয়া
- পুণ্যবান সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া
- পাপী সমাজের অংশ হয়ে যাওয়া
ঐতিহাসিক শিক্ষা
এই কাহিনী থেকে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাই:
শিক্ষা ১: সতর্কতার গুরুত্ব
নবীদের সতর্কবাণী উপেক্ষা করা বিপদজনক। শীস (আ.) তাঁর জাতিকে সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু অনেকে শোনেনি।
শিক্ষা ২: পাপের প্রথম পদক্ষেপ এড়িয়ে চলা
পাপের শুরুটা সবসময় ছোট হয়, কিন্তু শেষ পরিণতি মারাত্মক হতে পারে। তাই প্রথম পদক্ষেপ থেকেই সাবধান থাকতে হবে।
শিক্ষা ৩: কুসঙ্গের ক্ষতি
যারা পাপাচারে লিপ্ত তাদের সাথে মেলামেশা আমাদেরও পথভ্রষ্ট করতে পারে। কুরআনে বলা হয়েছে:
"হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না।" (সূরা মায়িদা: ৫১)
এর মানে এই নয় যে তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করা যাবে না, বরং এমন সম্পর্ক যা আমাদের ঈমানকে দুর্বল করে তা থেকে বিরত থাকতে হবে।
শিক্ষা ৪: আল্লাহর আদেশ মানার প্রয়োজনীয়তা
পাহাড়ের উপরের মানুষেরা যখন আল্লাহর আদেশ মানা ছেড়ে দিল, তখনই তারা ধ্বংস হয়ে গেল।
আধুনিক যুগে Two Societies-র বাস্তবতা
আজকের দুনিয়াতেও আমরা দুই ধরনের সমাজ দেখতে পাই:
আধুনিক "পাহাড়ের উপরের সমাজ"
- যারা ধর্মীয় মূল্যবোধ মেনে চলেন
- নৈতিকতা ও শালীনতা বজায় রাখেন
- পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল
- আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট
আধুনিক "নিচের উপত্যকার সমাজ"
- ধর্মীয় মূল্যবোধ উপেক্ষা করেন
- অবাধ স্বাধীনতার নামে অশ্লীলতা প্রচার করেন
- পার্থিব ভোগবিলাসে মগ্ন
- আখিরাতের চিন্তা নেই
আধুনিক প্রলোভন
আজকের যুগে "নিচে নামার" প্রলোভন অনেক:
- সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অশ্লীল কন্টেন্ট
- পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ
- হালাল-হারামের সীমা লঙ্ঘন
- বস্তুবাদী জীবনযাত্রা
কীভাবে নিজেকে রক্ষা করবেন?
১. দৃঢ় ঈমান গড়ুন
- নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করুন
- হাদিস অধ্যয়ন করুন
- ইসলামী জ্ঞান অর্জন করুন
- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ুন
২. সৎসঙ্গ বেছে নিন
- ধার্মিক বন্ধু-বান্ধব তৈরি করুন
- ইসলামিক স্টাডি সার্কেলে যোগ দিন
- মসজিদে নিয়মিত যান
- পাপী পরিবেশ থেকে দূরে থাকুন
৩. পাপের পথ থেকে দূরে থাকুন
- অশ্লীল কন্টেন্ট দেখা থেকে বিরত থাকুন
- হারাম কাজে জড়াবেন না
- সন্দেহজনক স্থান এড়িয়ে চলুন
- আল্লাহকে ভয় করুন
৪. পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন
- সন্তানদের ইসলামী শিক্ষা দিন
- পরিবারে দ্বীনি পরিবেশ তৈরি করুন
- একসাথে ইবাদত করুন
- ভালো-মন্দ নিয়ে আলোচনা করুন
৫. তাওবা ও ইস্তিগফার করুন
- নিয়মিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান
- ভুল হলে দ্রুত তাওবা করুন
- আল্লাহর রহমতের উপর ভরসা রাখুন
শীস (আ.)-এর উপদেশের প্রাসঙ্গিকতা
আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগের এই ঘটনা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক কেন?
কারণ ১: মানুষের স্বভাব অপরিবর্তিত
মানুষের মৌলিক স্বভাব আজও একই। প্রলোভন, লোভ, কামনা-বাসনা - এসব আদিকাল থেকে চলে আসছে।
কারণ ২: শয়তানের কৌশল একই
শয়তান আদম (আ.)-এর যুগে যেমন কৌশল ব্যবহার করেছিল, আজও সেই একই কৌশল ব্যবহার করছে - ধীরে ধীরে পাপের দিকে টানা।
কারণ ৩: সত্য-মিথ্যার দ্বন্দ্ব চিরন্তন
প্রতিটি যুগে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে সংগ্রাম চলে। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয় কোন পক্ষে থাকব।
কারণ ৪: নবীদের শিক্ষা সার্বজনীন
নবীদের শিক্ষা শুধু তাঁদের যুগের জন্য নয়, সব যুগের মানুষের জন্য।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে
কুরআনের নির্দেশনা
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন:
"আর তোমরা পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরের সহযোগিতা করো না।" (সূরা মায়িদা: ২)
"হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।" (সূরা তাওবা: ১১৯)
এই আয়াতগুলো তাফসীর ইবনে কাসীর এ বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
হাদিসের শিক্ষা
রাসূলুল্লাহ (সা.) হাদিসে বলেছেন:
"মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর থাকে। তাই প্রত্যেকের উচিত দেখে-শুনে বন্ধু বাছাই করা।" (আবু দাউদ, তিরমিযী)
"যে ব্যক্তি পাপের পথে ডাকে, সে ওই পাপের সমান গুনাহের অংশীদার হবে।" (মুসলিম)
এই হাদিসগুলো সহীহ বুখারী ও মুসলিম থেকে সংগৃহীত।
পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব
পিতা-মাতার দায়িত্ব
- সন্তানদের ইসলামী পরিবেশে বড় করা
- হালাল-হারাম শেখানো
- ভালো উদাহরণ স্থাপন করা
- তাদের সাথীদের সম্পর্কে সচেতন থাকা
ইসলামিক পেরেন্টিং সম্পর্কে আরও জানতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট দেখুন।
শিক্ষকদের দায়িত্ব
- শুধু পার্থিব জ্ঞান নয়, নৈতিক শিক্ষাও দেওয়া
- ছাত্র-ছাত্রীদের চরিত্র গঠন করা
- ইসলামী মূল্যবোধ শেখানো
সমাজের দায়িত্ব
- সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা
- ইসলামী পরিবেশ তৈরি করা
- যুবকদের সঠিক পথ দেখানো
- পাপ থেকে রক্ষার ব্যবস্থা করা
তাওবার সুযোগ
যারা ইতিমধ্যে "নিচে নেমে গেছেন" তাদের জন্যও আশার বাণী আছে। আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
তাওবার শর্ত
১. পাপ কাজ বন্ধ করা ২. অতীতের পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া ৩. ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প করা ৪. যদি কারো হক নষ্ট করা হয়ে থাকে তা ফিরিয়ে দেওয়া
আল্লাহ কুরআনে বলেন:
"বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেন।" (সূরা যুমার: ৫৩)
তাওবা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ইসলামিক স্কলারদের লেখা পড়ুন।
নবীদের কাহিনী থেকে শিক্ষা
শুধু শীস (আ.) নন, অন্যান্য নবীরাও তাঁদের জাতিকে সতর্ক করেছিলেন:
- হযরত নূহ (আ.) তাঁর জাতিকে শিরক থেকে সতর্ক করেছিলেন
- হযরত লূত (আ.) তাঁর জাতিকে অশ্লীলতা থেকে সতর্ক করেছিলেন
- হযরত শুয়াইব (আ.) তাঁর জাতিকে অসততা থেকে সতর্ক করেছিলেন
প্রতিটি নবীর কাহিনী থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি।
ইসলামী সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ
আমাদের ইসলামী সংস্কৃতি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি:
পোশাক-পরিচ্ছদ
- ইসলামী পর্দা মেনে চলা
- শালীন পোশাক পরা
- অশ্লীল ফ্যাশন এড়িয়ে চলা
খাদ্যাভ্যাস
- হালাল খাবার খাওয়া
- হারাম থেকে বিরত থাকা
- বিসমিল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ বলা
সামাজিক মেলামেশা
- ইসলামী আদব মেনে চলা
- নারী-পুরুষের সীমারেখা রক্ষা করা
- হালাল বিনোদন বেছে নেওয়া
যুব সমাজের জন্য পরামর্শ
আজকের যুবকরা সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে:
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার
- সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন
- অশ্লীল কন্টেন্ট এড়িয়ে চলুন
- ইসলামিক পেজ ফলো করুন
- সময় নষ্ট করবেন না
ক্যারিয়ার ও শিক্ষা
- হালাল পথে উপার্জন করুন
- ইসলামী মূল্যবোধ বজায় রেখে পড়াশোনা করুন
- ইসলামী জ্ঞানের সাথে দুনিয়াবী জ্ঞান সমন্বয় করুন
বিবাহ ও পরিবার
- সময়মত বিবাহ করুন
- ইসলামী পদ্ধতিতে বিবাহ করুন
- পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষা করুন
উপসংহার
হযরত শীস (আলাইহিস সালাম)-এর এই সতর্কবাণী "নিচে যেও না, সেখানে পাপ" আজও আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। দুই সমাজের কাহিনী আমাদের শেখায় যে:
- পাপের পথে প্রথম পদক্ষেপ এড়িয়ে চলতে হবে
- কুসঙ্গ আমাদের ধ্বংস করতে পারে
- আল্লাহর আদেশ মেনে চলাই মুক্তির পথ
- তাওবার দরজা সবসময় খোলা
আসুন, আমরা শীস (আ.)-এর এই শিক্ষা থেকে উপকৃত হই এবং নিজেদের ও পরিবারকে পাপের পথ থেকে রক্ষা করি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমীন।
আরও ইসলামী জ্ঞান অর্জনের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. হযরত শীস (আ.) কে ছিলেন?
হযরত শীস (আ.) ছিলেন হযরত আদম (আ.)-এর তৃতীয় পুত্র এবং একজন নবী। হাবিল-কাবিলের ঘটনার পর আল্লাহ তায়ালা আদম (আ.)-কে তাঁকে দান করেন। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করেছিলেন এবং ৫০টি সহীফা প্রাপ্ত হয়েছিলেন। আরও পড়ুন
২. দুই সমাজ বলতে কী বোঝায়?
দুই সমাজ বলতে বোঝায় পাহাড়ের উপরের পুণ্যবান সমাজ যারা আল্লাহর ইবাদত করতেন এবং নিচের উপত্যকার পাপী সমাজ যারা পাপাচারে লিপ্ত ছিলেন। এটি মূলত সত্য ও মিথ্যা, পুণ্য ও পাপের মধ্যকার দ্বন্দ্বের প্রতীক। বিস্তারিত জানুন
৩. শীস (আ.) কেন "নিচে যেতে" নিষেধ করেছিলেন?
শীস (আ.) জানতেন যে নিচের উপত্যকার পাপী সমাজের সংস্পর্শে এলে পুণ্যবান মানুষেরাও পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। কুসঙ্গ মানুষকে ধ্বংস করে, তাই তিনি তাঁর অনুসারীদের সতর্ক করেছিলেন।
৪. আধুনিক যুগে এই শিক্ষা কীভাবে প্রয়োগ করব?
আধুনিক যুগে আমাদের উচিত:
- অশ্লীল ও হারাম কন্টেন্ট থেকে দূরে থাকা
- সৎসঙ্গ বেছে নেওয়া
- পাপের প্রথম পদক্ষেপ এড়িয়ে চলা
- পরিবারে ইসলামী পরিবেশ তৈরি করা
৫. যদি ইতিমধ্যে পাপের পথে চলে গিয়ে থাকি, তাহলে কী করব?
আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত ক্ষমাশীল। যত বড় পাপই হোক না কেন, আন্তরিক তাওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। পাপ কাজ বন্ধ করুন, অনুতপ্ত হন, এবং ভবিষ্যতে না করার সংকল্প করুন।
৬. কুসঙ্গ কতটা ক্ষতিকর?
কুসঙ্গ অত্যন্ত ক্ষতিকর। হাদিসে বলা হয়েছে মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর থাকে। খারাপ সঙ্গ আমাদের চরিত্র, আচরণ ও ঈমান সবকিছুকে প্রভাবিত করে।
৭. সন্তানদের কীভাবে পাপ থেকে রক্ষা করব?
সন্তানদের রক্ষার জন্য:
- তাদের ইসলামী শিক্ষা দিন
- ভালো উদাহরণ স্থাপন করুন
- তাদের বন্ধুদের সম্পর্কে সচেতন থাকুন
- ইসলামী পরিবেশ তৈরি করুন
- তাদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন
৮. শীস (আ.)-এর কাহিনীর সত্যতা কতটুকু?
এই কাহিনী ইসলামিক ইতিহাস ও তাফসীরের বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লেখিত। যদিও কুরআনে সরাসরি এই ঘটনা বর্ণিত নেই, তবে ইসলামী স্কলাররা এটি সহীহ বলে মেনে নিয়েছেন।
৯. এই কাহিনী থেকে মূল শিক্ষা কী?
মূল শিক্ষা হলো:
- পাপের পথে প্রথম পদক্ষেপ না নেওয়া
- নবীদের সতর্কবাণী মেনে চলা
- সৎসঙ্গ অবলম্বন করা
- আল্লাহর আদেশ মান্য করা
১০. তাওবা করার সঠিক পদ্ধতি কী?
তাওবার জন্য: ১. পাপ কাজ অবিলম্বে বন্ধ করুন ২. আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হন ৩. আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান ৪. ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প করুন ৫. কারো হক নষ্ট করলে তা ফিরিয়ে দিন
তাওবা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ইসলামী বই পড়ুন।
সহায়ক রিসোর্স ও আরও পড়ুন
ইসলামিক ওয়েবসাইট
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ https://www.islamicfoundation.gov.bd বাংলাদেশের প্রধান ইসলামিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান
আল-কুরআন বাংলা অনুবাদ https://quran.com/bn পবিত্র কুরআনের বাংলা অনুবাদ ও তাফসীর
হাদিস সংগ্রহ https://sunnah.com সহীহ হাদিসের বিশাল সংগ্রহ
ইসলামী জ্ঞান অর্জনের জন্য https://www.al-feqh.com ইসলামিক ফিকহ ও জ্ঞানের ভান্ডার
নবীদের জীবনী সম্পর্কে জানতে https://www.islamstory.com নবী-রাসূলদের জীবনী ও ইতিহাস
সম্পর্কিত আর্টিকেল
- হযরত আদম (আ.)-এর জীবনী
- হাবিল-কাবিলের ঘটনা
- নবীদের কাহিনী সিরিজ
- ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধ
- তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা
- কুসঙ্গ থেকে বাঁচার উপায়
- সন্তান লালন-পালনে ইসলামী নির্দেশনা
বই সুপারিশ
১. কাসাসুল আম্বিয়া - নবীদের কাহিনী ২. তাফসীর ইবনে কাসীর - কুরআনের ব্যাখ্যা ৩. রিয়াদুস সালেহীন - হাদিস সংকলন ৪. সীরাতুন নবী - রাসূলের জীবনী
শেয়ার করুন
আর্টিকেলটি শেয়ার করুন যাতে অন্যরাও এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা থেকে উপকৃত হতে পারেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে নিচের বাটনগুলো ব্যবহার করুন:
- Telegram
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হিদায়াত দান করুন। আমীন।
লেখক সম্পর্কে: এই আর্টিকেলটি ইসলামী ইতিহাস ও শিক্ষা নিয়ে গবেষণার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ক্যাটাগরি: ইসলামিক ইতিহাস, নবীদের কাহিনী, নৈতিক শিক্ষা
ট্যাগস: শীস (আ.), নবী, ইসলামিক ইতিহাস, দুই সমাজ, পাপ থেকে বাঁচার উপায়, তাওবা, ইসলামী শিক্ষা, কুসঙ্গ, সৎসঙ্গ, নৈতিক শিক্ষা, আদম (আ.), হাবিল কাবিল, ইসলামিক মূল্যবোধ, যুব সমাজ, পরিবার
কীওয়ার্ড: শীস নবী, দুই সমাজের কাহিনী, নিচে যেও না সেখানে পাপ, ইসলামিক গল্প, নবীদের জীবনী, পাপ থেকে রক্ষা, তাওবা করার নিয়ম, কুসঙ্গ এড়ানোর উপায়, ইসলামী শিক্ষা বাংলা
ডিসক্লেইমার: এই আর্টিকেলটি ইসলামী ইতিহাস ও তাফসীরের উপর ভিত্তি করে লেখা। সঠিক ইসলামী জ্ঞানের জন্য সবসময় বিশ্বস্ত আলেমদের সাথে পরামর্শ করুন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট দেখুন।
কপিরাইট © ২০২৬ - সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। ইসলামী জ্ঞান বিতরণের উদ্দেশ্যে শেয়ার করা যাবে।
মন্তব্য করুন: আপনার মতামত, প্রশ্ন বা পরামর্শ কমেন্ট বক্সে জানান। আমরা আপনার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন: নতুন ইসলামী আর্টিকেল সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন এবং শীস (আলাইহিস সালাম)-এর শিক্ষা থেকে উপকৃত হওয়ার তাওফিক দিন। আমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন।
জাযাকাল্লাহু খাইরান - আর্টিকেলটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। শেয়ার করুন এবং অন্যদের উপকৃত হতে সাহায্য করুন।
_%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95_%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8.jpeg)
Please do not enter any spam link in the comment box. ConversionConversion EmoticonEmoticon