ইবলিসের ভালো সময় ছিল জানলে অবাক হবেন | Iblis Story in Bangla

 


ইবলিসের_ভালো_সময়_ছিল_জানলে_অবাক_হবেন





















ইবলিসের ভালো সময় ছিল জানলে অবাক হবেন | Iblis Story in Bangla

ভূমিকা

ইবলিস বা শয়তান - এই নামটি শুনলেই আমাদের মনে ভয়, ঘৃণা এবং নেতিবাচকতার ছবি ভেসে উঠে। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই ইবলিসেরও একসময় অত্যন্ত ভালো এবং সম্মানজনক জীবন ছিল? হ্যাঁ, একদম ঠিক শুনেছেন। আজকের এই পাপিষ্ঠ এবং অভিশপ্ত সত্তা একসময় ছিল আল্লাহর অন্যতম অনুগত উপাসক।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবো ইবলিসের সেই সুন্দর সময়ের কথা, তার পতনের ইতিহাস এবং এই গল্প থেকে আমরা কী শিক্ষা নিতে পারি। এই বিষয়টি জানা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি আমাদেরকে অহংকার, নাফরমানি এবং হিংসার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে।

ইবলিসের পরিচয় এবং সৃষ্টি

ইবলিস কে ছিলেন?

ইবলিস মূলত জিন জাতির একজন সদস্য ছিল। অনেকে ভুল করে তাকে ফেরেশতা মনে করেন, কিন্তু পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে সে জিন জাতি থেকে সৃষ্ট। সূরা কাহফের ৫০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত।"

জিনদের সৃষ্টি করা হয়েছে আগুনের শিখা থেকে, যেখানে মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে মাটি থেকে এবং ফেরেশতাদের সৃষ্টি করা হয়েছে নূর বা আলো থেকে। আল্লাহর সৃষ্টির বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানতে এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পরবর্তীতে ইবলিসের অহংকারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তার আসল নাম কী ছিল?

ইসলামিক স্কলারদের মতে, ইবলিসের আসল নাম ছিল "আজাজিল" বা "হারিস"। ইবলিস শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ থেকে যার অর্থ হলো "নিরাশ" বা "হতাশ"। আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর তাকে এই নামে ডাকা হয়।

ইবলিসের সোনালী অতীত - যে সময়টা ছিল আশ্চর্যজনক

অসাধারণ ইবাদতকারী

আজকে যে ইবলিসকে আমরা মানুষের চরম শত্রু হিসেবে জানি, একসময় সে ছিল আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপাসক। তার ইবাদত ছিল এতটাই গভীর এবং নিবেদিত যে অনেক ইসলামিক স্কলার বর্ণনা করেছেন:

  • তিনি হাজার হাজার বছর ধরে আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন ছিলেন
  • পৃথিবীতে, আসমানে এবং বিভিন্ন স্তরে তিনি ইবাদত করেছেন
  • তার ইবাদতের তীব্রতা এবং দীর্ঘস্থায়িত্ব অন্যদের থেকে আলাদা ছিল
  • তিনি কুরআন এবং ইলম অর্জনে ব্যাপক পারদর্শী ছিলেন

ফেরেশতাদের সাথে অবস্থান

ইবলিসের ইবাদত এবং জ্ঞান এতটাই উচ্চ মর্যাদার ছিল যে তাকে ফেরেশতাদের সাথে উর্ধ্ব আকাশে স্থান দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল অসাধারণ সম্মানের বিষয়। একজন জিন হয়েও তিনি ফেরেশতাদের মাঝে থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন তার অসামান্য ইবাদতের কারণে।

কিছু বর্ণনা মতে, তিনি ফেরেশতাদের একটি দলের নেতা বা সর্দার ছিলেন। এই উচ্চ মর্যাদা তাকে আরও বেশি গর্বিত এবং আত্মম্ভরী করে তুলেছিল।

জ্ঞান এবং প্রজ্ঞায় শ্রেষ্ঠত্ব

ইবলিস শুধুমাত্র ইবাদতে নয়, জ্ঞান এবং প্রজ্ঞাতেও অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তিনি আল্লাহর বিধান, আইন-কানুন এবং সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতেন। এই জ্ঞানই পরবর্তীতে মানুষকে পথভ্রষ্ট করার তার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়।

আল্লাহর নৈকট্য লাভ

দীর্ঘ সময়ের অক্লান্ত ইবাদত এবং আনুগত্যের ফলে ইবলিস আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেছিলেন। এটি ছিল এমন একটি মর্যাদা যা সবাই পায় না। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, এই নৈকট্যই তার অহংকারের জন্ম দিয়েছিল।

হযরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টি এবং পরীক্ষা

মানুষ সৃষ্টির ঘোষণা

আল্লাহ তায়ালা যখন পৃথিবীতে তাঁর খলিফা হিসেবে মানুষ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন তিনি ফেরেশতাদের এই বিষয়ে অবহিত করলেন। সূরা বাকারায় আল্লাহ বলেছেন: "যখন তোমার রব ফেরেশতাদের বললেন, নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা সৃষ্টি করবো।"

হযরত আদম (আ.)-এর শ্রেষ্ঠত্ব

আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করলেন এবং তাঁকে বিশেষ জ্ঞান দান করলেন। তিনি আদম (আ.) কে সকল বস্তুর নাম শিখিয়ে দিলেন, যা ফেরেশতারা জানতো না। এভাবে আল্লাহ প্রমাণ করলেন যে মানুষের বিশেষ মর্যাদা এবং সম্ভাবনা রয়েছে।

সেজদার আদেশ

আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতা এবং ইবলিসকে আদেশ দিলেন হযরত আদম (আ.) কে সম্মানসূচক সেজদা করতে। এটি ছিল একটি পরীক্ষা - আনুগত্য এবং বিনয়ের পরীক্ষা। সকল ফেরেশতা তৎক্ষণাৎ আল্লাহর আদেশ পালন করলো।

ইবলিসের পতনের মুহূর্ত - অহংকার এবং অবাধ্যতা

সেজদা করতে অস্বীকার

যখন সকল ফেরেশতা হযরত আদম (আ.) কে সেজদা করলো, তখন একমাত্র ইবলিস অস্বীকার করলো। হাজার হাজার বছরের ইবাদত, জ্ঞান এবং মর্যাদা - সবকিছু এক মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে গেল শুধুমাত্র অহংকারের কারণে।

সূরা আরাফের ১২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ জিজ্ঞাসা করলেন: "কিসে তোমাকে বাধা দিল সেজদা করতে যখন আমি তোমাকে আদেশ দিলাম?" ইবলিস উত্তর দিল: "আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।"

অহংকারের প্রকাশ

ইবলিসের এই উত্তরে তিনটি মারাত্মক ভুল ছিল:

  1. অহংকার: সে নিজেকে আদম (আ.) থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করলো
  2. যুক্তিবাদ: আল্লাহর আদেশে যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করলো
  3. অবাধ্যতা: সরাসরি আল্লাহর আদেশ অমান্য করলো

অহংকার মানুষকে এবং জিনকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। ইবলিস তার সৃষ্টিগত উপাদান (আগুন) নিয়ে গর্ব করলো এবং মাটিকে তুচ্ছ মনে করলো। কিন্তু সে ভুলে গেল যে মর্যাদা সৃষ্টির উপাদানে নয়, বরং আল্লাহর নির্ধারণে।

আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়ন

ইবলিসের অবাধ্যতার শাস্তি ছিল ভয়াবহ। আল্লাহ তায়ালা তাকে তাঁর রহমত থেকে চিরতরে বিতাড়িত করলেন। সূরা আরাফে আল্লাহ বলেন: "তুমি এখান থেকে নেমে যাও। এখানে তোমার অহংকার করার অধিকার নেই। বের হয়ে যাও, নিশ্চয়ই তুমি অপমানিতদের অন্তর্ভুক্ত।"

এই বিতাড়নের মাধ্যমে ইবলিস হারালো:

  • আল্লাহর নৈকট্য
  • উচ্চ মর্যাদা
  • ফেরেশতাদের সাথে অবস্থানের সম্মান
  • জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ

ইবলিসের চ্যালেঞ্জ এবং মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ

কেয়ামত পর্যন্ত সময় চাওয়া

বিতাড়িত হওয়ার পর ইবলিস আল্লাহর কাছে একটি বিশেষ অনুমতি চাইলো - কেয়ামত পর্যন্ত জীবিত থাকার অনুমতি। আল্লাহ তাকে এই অনুমতি দিলেন। সূরা হিজরে বলা হয়েছে: "সে বললো, হে আমার রব! তাহলে আমাকে সেই দিন পর্যন্ত সময় দিন যেদিন মানুষকে পুনরুত্থিত করা হবে। আল্লাহ বললেন, তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।"

মানুষকে পথভ্রষ্ট করার শপথ

ইবলিস তার পতনের জন্য আদম (আ.) এবং তাঁর বংশধরদের দায়ী করলো। সে আল্লাহর কাছে শপথ করলো যে মানুষকে পথভ্রষ্ট করবে। সূরা আরাফে সে বলেছে: "আপনি আমাকে যেভাবে পথভ্রষ্ট করেছেন, আমি অবশ্যই তাদের জন্য আপনার সরল পথে বসে থাকবো। তারপর আমি তাদের কাছে আসবো তাদের সামনে থেকে, পেছন থেকে, ডান থেকে এবং বাম থেকে।"

শয়তানের কৌশল

ইবলিস মানুষকে পথভ্রষ্ট করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে:

  1. সন্দেহ সৃষ্টি করা: আল্লাহর প্রতি, দ্বীনের প্রতি সন্দেহ তৈরি করা
  2. খারাপ কাজকে সুন্দর করে উপস্থাপন: পাপকে আকর্ষণীয় করে তোলা
  3. ভয় দেখানো: দারিদ্র্যের ভয়, মানুষের ভয়
  4. আশা দেখানো: মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া
  5. বিলম্ব করানো: তওবা এবং ভালো কাজে দেরি করানো
  6. বিভেদ সৃষ্টি: মুসলিমদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ তৈরি করা

ইবলিসের গল্প থেকে শিক্ষা

অহংকার সবচেয়ে বড় পাপ

ইবলিসের গল্প থেকে প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো অহংকার কত ভয়াবহ। হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন: "যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।"

অহংকার মানুষকে:

  • আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়
  • অন্যদের তুচ্ছ করতে শেখায়
  • সত্য গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে
  • ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়

আনুগত্যই মূল বিষয়

লক্ষ বছরের ইবাদতও ইবলিসকে রক্ষা করতে পারেনি কারণ সে এক মুহূর্তের জন্য আল্লাহর আদেশ অমান্য করেছিল। এটি আমাদের শেখায় যে আল্লাহর আদেশ পালনে কোনো প্রশ্ন বা যুক্তির স্থান নেই। "শুনলাম এবং মানলাম" - এই হওয়া উচিত মুমিনের দৃষ্টিভঙ্গি।

হিংসা ধ্বংসের কারণ

ইবলিস আদম (আ.) এর প্রতি হিংসা করেছিল তাঁর বিশেষ মর্যাদার জন্য। হিংসা মানুষের হৃদয়কে কালো করে দেয় এবং তাকে অন্যায় কাজে প্ররোচিত করে। হাদিসে এসেছে: "তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ হিংসা ভালো কাজকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে যেমন আগুন শুকনো কাঠকে জ্বালিয়ে দেয়।"

তওবার দরজা সবসময় খোলা

ইবলিস এবং আদম (আ.) উভয়েই ভুল করেছিলেন। কিন্তু পার্থক্য হলো আদম (আ.) তওবা করেছিলেন এবং আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। অন্যদিকে ইবলিস অহংকারে অটল থেকে তওবা করেনি। এটি শেখায় যে যত বড় পাপই হোক না কেন, তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন।

শয়তানের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকা

শয়তান আমাদের প্রকাশ্য শত্রু। কুরআনে আল্লাহ বারবার সতর্ক করেছেন শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচতে। আমাদের উচিত:

  • নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করা
  • পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া
  • সকাল-সন্ধ্যার দোয়া পড়া
  • আল্লাহর জিকির করা
  • খারাপ সঙ্গ ত্যাগ করা

আধুনিক যুগে শয়তানের কৌশল

ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ

আজকের যুগে শয়তান নতুন নতুন মাধ্যম ব্যবহার করছে মানুষকে পথভ্রষ্ট করতে:

  • সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অশ্লীলতার প্রসার
  • ভার্চুয়াল জগতে সময় নষ্ট করানো
  • মিথ্যা তথ্য এবং গুজব ছড়ানো
  • বস্তুবাদী জীবনযাপনে উৎসাহিত করা

নামাজ থেকে দূরে রাখা

শয়তানের প্রধান লক্ষ্য হলো মানুষকে নামাজ থেকে দূরে রাখা। সে বিভিন্ন অজুহাত তৈরি করে:

  • এখন ব্যস্ত আছি, পরে পড়বো
  • আরও কিছুক্ষণ ঘুমাই
  • এই কাজটা শেষ করি

পরিবারে বিশৃঙ্খলা তৈরি

শয়তান পরিবারের মধ্যে ঝগড়া, মনোমালিন্য এবং বিচ্ছেদ ঘটাতে চায়। হাদিসে এসেছে, শয়তান সবচেয়ে বেশি খুশি হয় যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাক হয়।

মুক্তির উপায় - শয়তান থেকে বাঁচার পদ্ধতি

কুরআন এবং হাদিসের আলো

কুরআন এবং হাদিস আমাদের জীবনের পথপ্রদর্শক। নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত এবং এর অর্থ বুঝে পড়া আমাদের শয়তানের ধোঁকা থেকে রক্ষা করে। রাসুল (সা.) বলেছেন: "যে ঘরে সূরা বাকারা তিলাওয়াত করা হয়, শয়তান সেই ঘর থেকে পালিয়ে যায়।"

দৈনিক জিকির এবং দোয়া

সকাল-সন্ধ্যার নির্ধারিত দোয়া এবং জিকির শয়তান থেকে সুরক্ষা দেয়:

  • আয়াতুল কুরসি
  • সূরা ইখলাস, ফালাক এবং নাস
  • বিসমিল্লাহ পড়া
  • আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাশ শাইতানির রাজিম

সৎসঙ্গ অবলম্বন

হাদিসে এসেছে, "মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর থাকে।" তাই ভালো মানুষের সাথে চলাফেরা এবং দ্বীনদার বন্ধু নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি।

নিয়মিত তওবা-ইস্তিগফার

প্রতিদিন আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং তওবা করা আমাদের শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখে। রাসুল (সা.) দিনে ১০০ বারের বেশি ইস্তিগফার করতেন।

ইসলামিক স্কলারদের মতামত

বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার ইমাম ইবনে কাসীর তার তাফসীরে উল্লেখ করেছেন যে ইবলিসের পতন আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। তিনি বলেন, "যতই ইবাদত করা হোক না কেন, যদি অন্তরে অহংকার থাকে তাহলে সব বৃথা।"

আধুনিক যুগের প্রখ্যাত আলেম শায়খ ইউসুফ আল-কারাদাভি বলেছেন, "শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব এবং এটি কেয়ামত পর্যন্ত চলবে।"

উপসংহার

ইবলিসের গল্প আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। একজন মহান উপাসক থেকে কীভাবে অভিশপ্ত শয়তানে পরিণত হওয়া যায়, তার জীবন্ত উদাহরণ ইবলিস। অহংকার, হিংসা এবং অবাধ্যতা - এই তিনটি বিষয় তাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

আমাদের সবার উচিত এই গল্প থেকে শিক্ষা নিয়ে আল্লাহর আনুগত্যে অটল থাকা, বিনয়ী হওয়া এবং শয়তানের ধোঁকা থেকে সতর্ক থাকা। মনে রাখতে হবে, যত বড় ইবাদতগুজারই হই না কেন, এক মুহূর্তের অহংকার সব শেষ করে দিতে পারে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন এবং শয়তানের প্রতারণা থেকে রক্ষা করুন। আমীন।

আরও পড়ুন:

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. ইবলিস কি ফেরেশতা ছিল?

না, ইবলিস ফেরেশতা ছিল না। সে ছিল জিন জাতির সদস্য যা আগুন থেকে সৃষ্ট। কুরআনের সূরা কাহফে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে সে জিনদের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে তার উচ্চ মর্যাদার কারণে তাকে ফেরেশতাদের সাথে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

২. ইবলিস কতদিন ইবাদত করেছিল?

বিভিন্ন ইসলামিক স্কলারদের মতে, ইবলিস হাজার হাজার বছর ধরে আল্লাহর ইবাদত করেছিল। কিছু বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে সে ৬০,০০০ বছরেরও বেশি সময় ইবাদতে মগ্ন ছিল। আরও জানুন ইবলিসের ইবাদত সম্পর্কে।

৩. ইবলিস কেন আদম (আ.) কে সেজদা করতে অস্বীকার করল?

ইবলিস অহংকারের কারণে সেজদা করতে অস্বীকার করেছিল। সে মনে করেছিল যে আগুন থেকে সৃষ্ট হওয়ার কারণে সে মাটি থেকে সৃষ্ট আদম (আ.) থেকে শ্রেষ্ঠ। এই অহংকারই তার পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৪. শয়তান কি মানুষকে জোর করে পাপ করাতে পারে?

না, শয়তান মানুষকে জোর করে কোনো পাপ করাতে পারে না। সে শুধুমাত্র প্রলোভন দেখায় এবং খারাপ কাজকে আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মানুষেরই। কুরআনে বলা হয়েছে, কেয়ামতের দিন শয়তান বলবে যে তার কোনো ক্ষমতা ছিল না, শুধু ডেকেছিল এবং মানুষ সাড়া দিয়েছে।

৫. ইবলিসের কি ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ ছিল?

হ্যাঁ, ইবলিসের ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ ছিল যদি সে তওবা করতো এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতো। কিন্তু সে তার অহংকারে অটল থাকলো এবং তওবা করার বদলে মানুষকে পথভ্রষ্ট করার শপথ নিল।

৬. শয়তান থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায় কী?

শয়তান থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলো হলো:

৭. ইবলিস কবে ধ্বংস হবে?

ইবলিস কেয়ামতের দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকবে। কেয়ামতের পর বিচার দিবসে তার চূড়ান্ত শাস্তি হবে এবং সে চিরকালের জন্য জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।

৮. আদম (আ.) এবং ইবলিস উভয়েই ভুল করেছিলেন, তাহলে পার্থক্য কোথায়?

পার্থক্য হলো তওবায়। হযরত আদম (আ.) তাঁর ভুল বুঝতে পেরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং তওবা করেছিলেন। অন্যদিকে ইবলিস তার ভুল স্বীকার করেনি, তওবা করেনি, বরং আরও বেশি অবাধ্য হয়েছে। এটাই প্রমাণ করে যে তওবার দরজা সবার জন্য খোলা, কিন্তু অহংকার মানুষকে ক্ষমা চাইতে বাধা দেয়।

শেয়ার করুন: এই আর্টিকেলটি আপনার প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন যাতে তারাও ইবলিসের গল্প থেকে শিক্ষা নিতে পারে।

সূত্র:

লেখক সম্পর্কে: এই আর্টিকেলটি লেখা হয়েছে ইসলামিক জ্ঞান বিতরণ এবং মানুষকে সঠিক পথ দেখানোর উদ্দেশ্যে। আমরা চেষ্টা করি প্রতিটি তথ্য কুরআন এবং সহীহ হাদিস থেকে উপস্থাপন করতে।

Disclaimer: এই আর্টিকেলে উল্লেখিত সকল তথ্য কুরআন, হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য ইসলামিক উৎস থেকে সংগৃহীত। কোনো বিষয়ে সন্দেহ থাকলে আলেমদের সাথে পরামর্শ করুন।

Previous
Next Post »

Please do not enter any spam link in the comment box. ConversionConversion EmoticonEmoticon