হারানো বিমানের খোঁজে জঙ্গলে এক বালকের অ্যাডভেঞ্চার
ঘন জঙ্গলের গভীরে হারিয়ে যাওয়া একটি বিমানের খবর গ্রামের মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল। কেউ জানত না কোথায় সেটি পড়েছে, কিংবা ভেতরে থাকা মানুষগুলো বেঁচে আছে কি না। ঠিক এই সময়েই সামনে আসে মাত্র চৌদ্দ বছরের এক বালক—রাহিম। ছোটবেলা থেকেই জঙ্গল, মানচিত্র আর অনুসন্ধানমূলক অভিযানের প্রতি তার আলাদা আগ্রহ ছিল। হারানো বিমানের কথা শুনে তার মন যেন আগুনে জ্বলে ওঠে। সে ঠিক করে—সবাই না পারলেও, সে নিজের মতো করে খোঁজ করবে।
রাহিম সকালবেলায় ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। সঙ্গে ছিল শুধু একটি কম্পাস, পানির বোতল, ছোট ছুরি আর শুকনো খাবার। জঙ্গলের প্রবেশমুখেই সে লক্ষ্য করল ভাঙা পাতার ছাপ, যেন ভারী কিছু এখানে টেনে নেওয়া হয়েছে। তার ধারণা—এটাই হয়তো বিমানের কিছু অংশ পড়ার চিহ্ন।
অদ্ভুত শব্দ, অচেনা পশুর চলাফেরা, আর মাথার ওপরে ঘন পত্রপল্লব—সবকিছুই তাকে ভয় দেখানোর জন্য যথেষ্ট ছিল। তবুও রাহিম পিছিয়ে যায় না। কয়েক কিলোমিটার এগিয়ে সে একটি ভাঙা ধাতব টুকরো দেখতে পায়। পরিষ্কার বোঝা যায়—এটি বিমানের অংশ। তার বুক ধড়ফড় করতে শুরু করে।জঙ্গলের ভেতরে যত এগোতে থাকে, ততই প্রকৃতির কঠোরতা তাকে পরীক্ষা নিতে শুরু করে।
আরো খানিকটা এগিয়ে একটি ছোট খোলা জায়গায় সে শুনতে পায় সামান্য শব্দ। কাছে গিয়ে দেখে—বিমানের সামনের অংশ একটি বিশাল গাছের গুঁড়িতে আটকে আছে। আশ্চর্যের বিষয়, বিমানটির ভেতরে একজন সহ-চালক এখনও জীবিত, তবে আহত। রাহিম দ্রুত তাকে পানি দেয় এবং আশ্বস্ত করে যে সাহায্য শিগগিরই পৌঁছাবে।
বালকটি সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের দিকে দৌড় দেয় এবং লোকজনকে খবর দেয়। উদ্ধারকারী দল এসে সহ-চালককে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সবাই রাহিমকে “হিরো” বলে ডাকতে শুরু করে। তার সাহস, বুদ্ধিমত্তা এবং মানবিকতা গ্রামের মানুষদের নতুন করে আশার আলো দেখায়।
এই কিশোরের দুঃসাহসিক অভিযান শুধু একটি বিমানের অনুসন্ধান নয়, বরং অটল মনোবল আর মানবিক দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ।
.jpeg)
Please do not enter any spam link in the comment box. ConversionConversion EmoticonEmoticon